গল্প: হতভাগা পর্ব: ৩ লেখক: গিয়াস_উদ্দিন_আহাম্মদ

 



গল্প: হতভাগা
পর্ব: ৩
লেখক: গিয়াস_উদ্দিন_আহাম্মদ

ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১১টা ছুঁই ছুঁই। নাদিয়া জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চাঁদের আলোয় নিজের প্রতিবিম্ব দেখছে। কিছুদিন আগেও এই জানালাটা ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা—রায়হানের অপেক্ষায় প্রতিদিন বসে থাকত এখানেই। কিন্তু এখন?



এই জানালাটা থেকেই তো ঘরে ঢুকেছিল সেই অমানুষটা। এই জানালার দিকেই তাকিয়ে থাকলে তার গায়ে কাঁটা দেয়। চোখ বন্ধ করলেই মনে পড়ে সেই রাতের ভয়াবহতা। গায়ের প্রতিটি কোষে যেন এখনও সেই আতঙ্ক লেগে আছে।



পেছন থেকে রায়হান ধীরে ধীরে এসে বলে,
— “তুমি আজ খুব চুপচাপ, নাদিয়া। কেমন লাগছে তোমার এখন?”


নাদিয়া ধীরে বলল,
— “আমি জানি না। কখনো মনে হয় আমি বেঁচে আছি, কখনো মনে হয় যেন একটা ঘোরের মধ্যে আছি। তুমি পাশে না থাকলে হয়তো আমি শেষ হয়ে যেতাম।”


রায়হান ওর কাঁধে হাত রাখে,
— “তুমি সাহস দেখিয়েছো। এখন আমাদের লড়াই শুরু। শুধু অপরাধীকে ধরা পড়লেই সব শেষ হয় না। তোমাকে সমাজের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। কারণ তুমি অপরাধী না, তুমি একজন ভুক্তভোগী, একজন যোদ্ধা।”


নাদিয়া একটু হেসে বলল,
— “যোদ্ধারা কি কাঁদে, রায়হান?”

— “হ্যাঁ, কিন্তু চোখের পানি দিয়ে তারা ঘাম মুছে নেয়।”

রায়হান ওর হাত ধরে।
— “আমি আছি, নাদিয়া। সব সময়।”



পরদিন সকালে থানায় আবার হাজির হয় রায়হান আর নাদিয়া। মামলার তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর জাকির হোসেন খুব আন্তরিকভাবে তাদের গ্রহণ করে।

— “আপনার সাহসকে আমি সম্মান করি, ভাবি। অনেকেই মুখ খোলেন না। আপনি মুখ খুলেছেন, বিচার চাইছেন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা করব।”


রায়হান প্রশ্ন করল,
— “কিন্তু ওই লোকটাকে ধরার পর কী করলেন আপনারা?”


— “আমরা তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে শুরুতে কিছুই বলছিল না। কিন্তু আজ সকালে সে স্বীকার করেছে, সে একা নয়, আরও দুইজন ছিল। এই ঘটনাটা ছিল পরিকল্পিত। তারা আগে থেকেই জানত বাড়িতে মেয়েটা একা থাকে।”


নাদিয়ার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়,
— “মানে… এটা গ্যাং প্ল্যানড ছিল?”


— “হ্যাঁ। আমরা সেই দুইজনকে ধরার চেষ্টা করছি। তাদের নাম পাওয়া গেছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”


রায়হান মুখ শক্ত করে বলল,
— “আমরা বিচার চাই, স্যার। যেন আর কোনো নাদিয়াকে এমন নির্যাতনের শিকার না হতে হয়।”


ইন্সপেক্টর জাকির মাথা নোয়ালেন,
— “আমরা কাজ করছি, ভাই। সমাজ বদলাবে ধৈর্য আর সাহসের আলোয়।”



গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ে—নাদিয়া মামলা করেছে, অপরাধী ধরা পড়েছে, এবং সে একা ছিল না। পুরো ঘটনা যে ধর্ষণ, তা বোঝার পর গ্রামের অনেকেই নাদিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। রুবিনা নিজেই একদিন এসে বলে,


— “ভাবি, আমি তো কিছুই বুঝতে পারিনি সেদিন। আমি ভাবতাম, আপনি অন্যায় করেছেন। আমি ভুল করেছি।”


নাদিয়া বলে,
— “আপনি তো শুধু চোখে যা দেখেছেন সেটাই বলেছেন। কিন্তু সব সময় চোখে দেখা সত্য হয় না, তাই না?”


রুবিনা মাথা নিচু করে বলে,
— “আপনি যদি পারেন, আমাকে ক্ষমা করে দিন।”


নাদিয়া চোখ বন্ধ করে গভীরভাবে নিঃশ্বাস নেয়।
— “আমি আপনাকে দোষ দিই না। দোষ ওই সমাজের, যারা মেয়েদের চরিত্র নিয়ে আগে বিচার করে, তারপর প্রশ্ন করে।”



গল্পের মাঝেই চলতে থাকে মামলার শুনানি। অপরাধীরা একে একে ধরা পড়ে। আদালতে তাদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয় নাদিয়াকে। সেই চাহনি, সেই চোখ—সবকিছুই যেন আবার তাকে সেই ভয়াল রাতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এবার সে একা নয়। রায়হান, তানহা, এমনকি শাহিনুর বেগমও এবার তার পাশে।


শাহিনুর বেগম আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের বলে,


— “আমি একটা ভুল করেছিলাম। আমি আমার ছেলের বউকে না জিজ্ঞেস করেই দোষী ভেবেছিলাম। আজ বুঝি, সমাজের বড় সমস্যা হলো—আমরা নারীদের দোষারোপ করতে খুব তাড়াতাড়ি করি। এবার থেকে আমি আর কোনো মেয়ে সম্পর্কে না জেনে কোনো কথা বলব না। বরং পাশে দাঁড়াবো।”


এই কথা শুনে চারদিকে প্রশংসা শুরু হয়। পত্রিকায় শিরোনাম হয়:


"একজন মা’র উপলব্ধি বদলে দিলো সমাজের চোখ"



মাস দুয়েক কেটে যায়। মামলার রায় ঘোষণা হয়। তিনজন আসামির প্রত্যেককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত বলে,


— “এই রায়ের মাধ্যমে আমরা একটি বার্তা দিতে চাই—নারী নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যারা নির্যাতনের শিকার, তারা যদি মুখ খোলে, তাহলে বিচার হয়—আজ তার উদাহরণ হলো এই রায়।”


আদালত কক্ষে উপস্থিত সবাই হাততালি দেয়।

নাদিয়ার চোখে জল, রায়হান ওর পাশে দাঁড়িয়ে বলে,
— “এটাই তোমার বিজয়, নাদিয়া।”


নাদিয়া বলে,
— “আমাদের বিজয়, রায়হান। আমাদের ভালোবাসা, বিশ্বাস, আর সাহসের জয়।”


গল্প এখানেই শেষ হতো যদি না সমাজ হতো আরও গভীর, আরও খোঁচাদায়ী।


যখন নাদিয়া সন্তান জন্ম দেয়, তখন হাসপাতালের নার্সরা কানে কানে কথা বলে,
— “এই সেই মেয়ে, যার ধর্ষণের ঘটনা এত শোরগোল তুলেছিল!”


পাশের বেডের রোগিণী বলে,
— “এই মেয়ের সাহস আছে, তবে লজ্জাও তো কিছু থাকা দরকার ছিল!”


নাদিয়া এসব শুনেও মুখ ফিরিয়ে রাখে। এবার সে আর কাঁদে না, ভেঙে পড়ে না। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু বলে,


— “তুই আমার গর্ব, আমার সাহস। তুই কোনো পাপের সন্তান না, তুই ন্যায়ের প্রতীক। তোর জন্যই আমি লড়েছি। তুইই আমার নতুন ভোর।


গ্রামের স্কুলে নাদিয়া এখন মেয়েদের নিয়ে কাজ করে—সচেতনতা সেশনে নিজের গল্প বলে। ছোট ছোট মেয়েরা বলে,
— “ভাবি, আপনাকে দেখে সাহস পাই। যদি এমন কিছু হয়, আমরাও কথা বলব।”

রায়হান বলে,
— “তুমি শুধু একজন মা না, তুমি একটা প্রতীক—একটা প্রেরণা।”

তানহা সাংবাদিক হতে চায় এখন। বলে,
— “আমি ভাবির গল্প নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি বানাবো। যাতে আরও মেয়েরা সাহস পায়।”


চলবে…
পর্ব: ৩
গল্প: হতভাগা
লেখক: গিয়াস_উদ্দিন_আহাম্মদ


 💝হতভাগা গল্পটি সম্পন্ন pdf নিতে চান তাহলে এ নাম্বার 01897682335 হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমু করুন নাহলে পেইজে ইনবক্স করুন।

⭕শত্য প্রযোজ্য।


💝প্রিয় পাঠক, আপনার জন্য একটি ক্ষুদ্র অনুরোধ!


আপনি যখন আমার গল্পটি পড়ছেন, তখন শুধু একটি গল্পই নয়—আমার স্বপ্নকেও সমর্থন করছেন। গল্পের শেষে থাকা **মাত্র ৫ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনটি** ক্লিক করলে আমার সামান্য আয় হয়। ফেসবুক বা ওয়েবসাইট সরাসরি আয় দেয় না, কিন্তু **আপনার একটি ক্লিক** আমাকে নিয়মিত গল্প লিখতে অনুপ্রাণিত করে!  


এই ছোট্ট সহযোগিতাটুকুই আমার জন্য বিশাল। আপনার ভালোবাসা আর সমর্থন পেলে আমি আরও মন দিয়ে গল্প লিখতে পারব। ❤️  


**🔗 বিজ্ঞাপন লিঙ্ক:** 👇

https//wwwaddsadstaraadda.com


**#আপনার_এক_ক্লিক_আমার_অনুপ্রেরণা**  



✨ **ধন্যবাদ** আমার গল্পের পাশে থাকার জন্য!  





৪থ পর্ব লিংক👇

 https//mgugoloplikestorehotobagapartth


গল্প: হতভাগা পর্ব: ২ লেখক : গিয়াস_উদ্দিন_আহাম্মদ

গল্প: হতভাগা

পর্ব: ২
লেখক : গিয়াস_উদ্দিন_আহাম্মদ


💫

দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে তানহা একটানা কাঁদছে। ঘরের ভেতরের চিৎকার, থাপ্পড়ের শব্দ, নাদিয়ার কান্না—সব মিলে চারদিক যেন ভারী হয়ে উঠেছে। অথচ মাত্র এক ঘণ্টা আগেও এই বাড়ির পরিবেশ স্বাভাবিক ছিল।

রায়হান তখনও কিছুই জানে না। ফোনের ওপাশে মা হাউমাউ করে কেঁদে উঠেছে, কিন্তু স্পষ্ট কিছু বলছে না।

— "মা, কিছু বলো! এমন কী হয়েছে? তোমার গলাটা শুনেই তো আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম।"
রায়হানের কণ্ঠ ভেঙে পড়ছে।

অবশেষে কাঁদতে কাঁদতে শাহিনুর বেগম বলে ওঠে,
— "তোর বউ, রায়হান... সে মা হতে চলেছে। কিন্তু তুই তো তিন বছর ধরে বিদেশে! তাহলে বল, এই পেটের সন্তান কার?"

ফোনের ওপাশে এক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা। তারপর শুধু একটা গভীর নিশ্বাস।

— "তুমি নিশ্চিত তো মা?"
— "রুবিনা দেখেছে। জানালা দিয়ে এক লোক ঢুকেছে নাদিয়ার ঘরে। আমি তো ভাবতেও পারিনি এমন হবে। আমি তো ওকে মেয়ের মতো দেখেছি। কিন্তু দেখ, কীভাবে বিশ্বাস ভেঙে দিলো!"

রায়হান কিছুক্ষণের জন্য চুপ। তারপর শান্ত গলায় বলে,
— "মা, তুমি একটু শান্ত হও। আমি আগামী সপ্তাহেই ফিরছি। আমি নিজে এসে সব বুঝে নেব। এখন নাদিয়াকে কিছু করো না।"

শাহিনুর বেগম ফোন নামিয়ে রাখে। কিন্তু মনের মধ্যে আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলছে।


সন্ধ্যা নামে। তানহা চুপচাপ নাদিয়ার পাশে বসে। নাদিয়ার চোখ ফোলা, মুখ ফ্যাকাসে। কপাল ফাটা। ঠোঁটে রক্তের দাগ।

তানহা বলল,
— "ভাবি, তুমি সত্যিটা বলো। তুমি তো আমার বড় বোনের মতো। আমি জানি, তুমি এমন কিছু করতেই পারো না। কিন্তু যদি কিছু লুকিয়ে রাখো, তাহলে সেটা আরও খারাপ হবে।"

নাদিয়া চুপ। দুই চোখের কোণ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। ধীরে ধীরে বলে ওঠে,
— "তুই কি বিশ্বাস করিস তানহা, আমি কোনো পাপ করিনি?"

তানহা মাথা নাড়ে।
— "হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি।"

— "তাহলে শোন... সেই রাতে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। মা তখন পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পাই। আমি ভাবলাম মা ফিরেছেন। দরজা খুলতেই দেখি রায়হানের মতো দেখতে একজন লোক দাঁড়িয়ে। আমি কিছু বোঝার আগেই সে জোর করে ঘরে ঢুকে পড়ে।"

তানহার চোখ ছানাবড়া।
— "মানে?"

— "হ্যাঁ। আমি চিৎকার করেছিলাম, কিন্তু কেউ শুনতে পায়নি। পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। বাইরে বৃষ্টি, ভেতরে আমি একা... সে আমার মুখ চেপে ধরেছিল। আমি নিজেকে বাঁচাতে পারিনি। পরদিন জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি ঘরের এক কোণে পড়ে আছি। আমার শরীর কাঁপছিল। মা কিছু জিজ্ঞেস করেছিল, কিন্তু আমি কিছু বলতে পারিনি। কারণ আমি জানতাম কেউ বিশ্বাস করবে না।"

তানহা স্তব্ধ হয়ে যায়।
— "তাহলে তুমি ধর্ষণের শিকার হয়েছো?"

নাদিয়া চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়ে।
— "হ্যাঁ।"

— "তুমি থানায় যাওনি কেন?"

— "আমি সাহস পাইনি তানহা। তুমি তো জানো আমাদের সমাজ কেমন। সবাই বলবে আমি নিজের ইজ্জত নষ্ট করেছি। মা বিশ্বাস করত না। রায়হান হয়তো বলত, আমি ওকে ঠকিয়েছি। তাই চুপ করে গেছি।"

তানহা বলল,
— "কিন্তু ভাবি, চুপ থাকলে তো অপরাধী আরও সাহস পাবে! তুমি এইটা কাউকে বলোনি কেন?"

— "আমি তোকে বললাম আজ। কারণ তোকে আমার নিজের বোন মনে হয়।"

এই সময় দরজার বাইরে কিছু মানুষের কথাবার্তা শোনা যায়।

— "নাদিয়া নাকি বেইমানি করেছে!"
— "কী মেয়ে রে বাবা! এমন সুন্দরী, ভদ্র—সব নাটক ছিল বুঝি?"
— "মহিলাদের চরিত্র বোঝা মুশকিল।"

এই সব কথায় তানহা দাঁতে দাঁত চেপে রাগ সামলায়। বাইরে গিয়ে বলে,
— "আপনারা যদি নিজেদের পরিবার নিয়ে এমন কথা শুনতেন, ভালো লাগতো? দয়া করে গুজব ছড়াবেন না। সত্যি না জেনে কাউকে দোষারোপ করা অন্যায়।"

এক বৃদ্ধা বললেন,
— "তুই তো পিচ্চি, আমাদের শিখাতে এসেছিস?"

তানহা কাঁপা গলায় বলে,
— "না, আমি শুধু বলছি, একটু মানবতা দেখান। কেউ অন্যায় করলে বিচার হোক, কিন্তু গুজব ছড়িয়ে কারো জীবন নষ্ট করবেন না।"


এক সপ্তাহ পর।

রায়হান ফিরে এসেছে। মুখে চিন্তার ছাপ, চোখে গভীর বিষাদ। সে ঢুকেই দেখে মা কাঁদছেন, আর নাদিয়া এক কোণে বসে।

— "নাদিয়া, আমাকে সব বলো। সত্যিটা।"

নাদিয়া নিচু গলায় বলে,
— "আমি তোর উপর কোনোদিন বিশ্বাসঘাতকতা করিনি, রায়হান। যেটা হয়েছে, সেটা আমার ইচ্ছায় হয়নি। আমি নির্যাতনের শিকার।"

— "তুমি পুলিশে কেন যাওনি?"

— "আমি ভয় পেয়েছিলাম।"

রায়হান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
— "তুমি কি জানো, আমি এই তিন বছরে কতটা কষ্ট করেছি শুধু তোমার জন্য? মা প্রতিদিন কাঁদে, আমি তোমার কথা ভেবে রাত জেগে কাজ করেছি। আর ফিরে এসে এ খবর শুনলাম?"

— "তুমি চাইলে আমি চলে যাবো।"

— "না। তুমি কোথাও যাবে না। বরং আমরা থানায় যাবো। তোমার মেডিকেল করাতে হবে। তোমার কথা প্রমাণ করতে হবে। তোমার সম্মান ফিরিয়ে আনতে হবে।"

শাহিনুর বেগম এবার অবাক হয়ে যায়।
— "তুই এই মেয়েটার পক্ষে কথা বলছিস রায়হান?"

— "মা, আপনি তাকে গালি দিয়েছেন, মারধর করেছেন, অথচ একবারও তার কথা শোনেননি! আপনি কি জানেন, সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে?"

শাহিনুর বেগম থমকে যান। এক মুহূর্তের জন্য যেন হাওয়া বন্ধ হয়ে আসে।

রায়হান ধীরে ধীরে মায়ের হাত ধরে বলে,
— "আপনি কি চাইতেন না, আমি দেশে ফিরে এসে সত্যিটা নিজে জেনে নেই? আপনি না হয় মায়ের মতো, কিন্তু বিচার না জেনে আপনি যদি অন্যায় করেন, তাহলে তো আপনি-ই অপরাধী হয়ে যান।"

শাহিনুর বেগম চোখে জল নিয়ে বলেন,
— "আমার ভুল হয়েছে রায়হান। আমি মেয়েটার মুখে সত্যিটা শোনার সুযোগও দিইনি।"

রায়হান নাদিয়ার দিকে তাকিয়ে বলেন,
— "তোমাকে আমি ছেড়ে যাবো না। তুমি সাহস করেছো আজ সত্যি বলার। এখন সাহস করে বিচার পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে।"



ঘটনাটা থানায় গড়ায়। তদন্ত শুরু হয়। নাদিয়ার বর্ণনার ভিত্তিতে স্কেচ তৈরি হয় সেই অপরাধীর। এলাকায় খোঁজ শুরু হয়।

রুবিনা একদিন থানায় গিয়ে বলে,
— "আমি যাকে জানালার কাছে দেখেছিলাম, সে এলাকায় নতুন এসেছিল। কিছুদিন কাজ করেছে, তারপর হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। আমি এখন তার মুখ চিনতে পারবো।"

শেষপর্যন্ত অপরাধী ধরা পড়ে। DNA রিপোর্টেও প্রমাণ মেলে—বাচ্চার পিতা সেই অপরাধী।

নাদিয়ার চোখে জল, কিন্তু এবার সেটা লজ্জা বা দুঃখের নয়—বরং বিজয়ের, মুক্তির।


চলবে…
পর্ব: ২
গল্প: হতভাগা
লেখক: গিয়াস_উদ্দিন_আহাম্মদ


💝হতভাগা গল্পটি সম্পন্ন pdf নিতে চান তাহলে এ নাম্বার 01897682335 হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমু করুন নাহলে পেইজে ইনবক্স করুন।

⭕শত্য প্রযোজ্য।


💝 প্রিয় পাঠক, আপনার জন্য একটি ক্ষুদ্র অনুরোধ!


আপনি যখন আমার গল্পটি পড়ছেন, তখন শুধু একটি গল্পই নয়—আমার স্বপ্নকেও সমর্থন করছেন। গল্পের শেষে থাকা **মাত্র ৫ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনটি** ক্লিক করলে আমার সামান্য আয় হয়। ফেসবুক বা ওয়েবসাইট সরাসরি আয় দেয় না, কিন্তু **আপনার একটি ক্লিক** আমাকে নিয়মিত গল্প লিখতে অনুপ্রাণিত করে!  


এই ছোট্ট সহযোগিতাটুকুই আমার জন্য বিশাল। আপনার ভালোবাসা আর সমর্থন পেলে আমি আরও মন দিয়ে গল্প লিখতে পারব। ❤️  


**🔗 বিজ্ঞাপন লিঙ্ক:** 👇

https//wwwaddsadstaraadda.com


**#আপনার_এক_ক্লিক_আমার_অনুপ্রেরণা**  



✨ **ধন্যবাদ** আমার গল্পের পাশে থাকার জন্য!  





৩য় পর্ব লিংক👇

 https//mgugoloplikestorehotobagapartth


গালকাটা_কবরস্থান ( পর্ব-০২)

 গল্প-গালকাটা_কবরস্থান ( পর্ব-০২)

11111

লেখক- রিয়াজ_রাজ

------------------------

কিছু বুঝে উঠার আগেই কেও তাদের পিছন থেকে ধীর কন্ঠে বলল" আমি যাবো মামা,কিন্তু ভাড়া একটু বাড়াইয়া দিতে হইবো"। রিয়াজ আর নিলয় চমকে উঠে পিছনে তাকায়। দেখে একটা বৃদ্ধ লোক চাদর গায়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চেহারা কুৎসিত কালো। এবং একটা চোখ পুরো সাদা।


(বিঃদ্র- কোনো কপিবাজ গল্পটা শেষ হবার আগে কপি করবেন না। যদি করেন,তবে আপনার আইডি/পেজে অনেক রিপোর্ট যাবে।)


লোকটার দিকে অদ্ভুত চাহনিতে তাকিয়ে থাকে দুজনেই। এইটা মানুষ নাকি ভূত। লোকটা আবার বলল," স্যার ভয় পাইবার কারণ নাই। আমি ছোডো বেলায় একটা একচিডেন হইয়া চোখে আঘাত লাগাইছি৷ তাই এইরহম দেহায়"। উনার কথা শুনে নিলয় মুখের ভিতর ফিসফিস করে বলতে লাগলো," ভাষাকে পুরো গনহত্যা করে দিলো"। 


যাইহোক, ওরা লোকটার গাড়ির সামনে যায় অবশেষে। ব্যাগ গাড়ির পিছনে রেখে দুজনেই উঠে বসে। ড্রাইভার সাহেব গাড়ি চালু দেওয়ার আগে একটা গান চালিয়ে দেয়। সাউন্ড বক্স উনার গাড়িতেই ফিট করা। কিন্তু কষ্টের বিষয় হচ্ছে,গানটা রিয়াজ আর নিলয় হজম করতে পারছেনা। সেই ১৯৬৮ সালের একটা পুরনো গান। গানের সাউন্ড কোয়ালিটি শুনে ওদের বিষ হজম করার শাস্তি অনুভব হচ্ছে। এদিকে ড্রাইভার গাড়ি চালু দিয়ে টান দিলো। রিয়াজ আর নিলয় কানে হেডফোন গুজে দিয়ে কুচু কুচু কুচু গান লাগিয়ে দেয়৷ অন্তত গাড়ির গানটা শুনা যাচ্ছেনা। 


রাত গভীর হয়ে যাচ্ছে। এখন প্রায় রাত ১১ঃ৫৩ মিনিট।  শনশান একটা নিরিবিলি পথে গাড়িটা গন্তব্যে পৌঁছাতে থাকে। অথচ গন্তব্য আজও কারো জানা নেই। ওদের টার্গেট হচ্ছে গালকাটা কবরস্থান এলাকায় নেমে একটা হোটেল খোজে নিবে।কিন্তু হোটেল কি তারা আসলেই পাবে? দেখাযাক সামনে কি হয়। রিয়াজ নিলয় হেডফোনে গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ে।ওদের কিছুই মনে নেই। হুট করে ড্রাইভারের ডাকে তারা লাফিয়ে উঠলো," স্যার,আইসা পড়ছি৷ আপনেরা নাইমা যান"।  রিয়াজ নিলয় ঘাবড়ে লাফিয়ে উঠে ঠিকিই,কিন্তু উঠার পর তারা আরো বেশি ঘাবড়ে যায়৷ 

222222

ওদের গাড়ি একটা নদীর পাশে দাড় করানো। গাড়িও কোনো রাস্তায় নয়। একটা বিলের ( মাঠ) উপর। রিয়াজ ড্রাইভারকে বলল," আপনি কোথায় নিয়ে এলেন আমাদের। নদীর পাড়ে এনে বলছেন এলাকা এসেছে? "। ড্রাইভার কিছুটা মুচকি হেসে বলল," স্যার,এইখান থেইকা নদী পার কেমনে হমু। আপনারা একখান নৌকা নিয়া নদী পার হইতে হইবো। অন্য কোনো রাস্তা নাই। এই নদীর ওপাড়ে হচ্ছে গালকাটা কবরস্থান এলাকা। আমি ওহন কি করমু কন। আপনারা কি আগে থেইকা জানতেন না যে নদী পার হইতে হইবো? "। রিয়াজ নিলয়ের দিকে তাকিয়ে একটু চোখ রাঙ্গায়। নিলয় তাল হারিয়ে মাথা অন্য দিকে ঘুরায়। এরপর রিয়াজ ব্যাগ বের করে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে৷ নিলয়ও রিয়াজের পিছনে বের হয়। রিয়াজ ড্রাইভারকে টাকা দেওয়ার আগে বলল," আচ্ছা?  আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে পারি?"। ড্রাইভার কিছুক্ষণ রিয়াজের দিকে তাকিয়ে থাকে। এরপর বলল," জ্বী কি জিগাইবেন জিগান"। রিয়াজ কিছুটা খুশি হয়ে ব্যাগ থেকে একটা খাতা আর কলম বের করে। এরপর লোকটাকে জিজ্ঞেস করে," স্টেশনে এই এলাকার নাম শুনে সবাই ভয় পাচ্ছিলো কেন? আর আপনিও বা কেন আসলেন। অন্যদের মত ভয় কেনো পাননি?"। রিয়াজের কথা শুনে ড্রাইভার একটু আন ইজি ফীল করে। কেনো তা অজানা। কিন্তু পরবর্তীতে তার বয়ানে ক্লিয়ার হয়ে গেলো সব। ড্রাইভার একটা স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে জবাব দিতে থাকে,

- আমি একচিডেন করিনাই স্যার। আমার বারিও ওই গেরামে। একদিন আমি রাস্তায় গাড়ি চালাইতেছিলাম। হটাৎ কইরা দেখি মাঝ রাস্তায় আমার গাড়িডা নষ্ট হইয়া গেছে। আমি বুঝিনাই কি হইলো। তাই গাড়ি থেইকা নাইমা পেছনের ইঞ্জিন চেক করতাছিলাম। তহন আমার লগে যেডা হইছে,তা আমি কোনোদিন ভুলতে পারুম না। 

- কি হয়েছিলো সেদিন?

- আমি গাড়ি থেইকা নামার পর ইঞ্জিন চেক করতেছিলাম। তহন মনে হইলো আমার পেছনে কেও দাড়াই রইছে। ডর লাগতেছিলো আমার। ডরে ডরে আমি পেছনে তাকাই দেখি লম্বা কিছু এক্ষাণ জিনিস আমার মুখ চাইপা ধরছে। ওইডা বহুত লম্বা কিছু আছিলো। আমার মুখ ওর হাত দিয়া এমন ভাবে চাইপা ধরছে, আমি আর কিছু দেখতাছিলাম না। পরে হেয় আমারে গাড়ির লগে চাপাই ধরছে। আর তহন আমি হের চেহারা দেখছিলাম। কি ভয়ংকর। আমি মুখে কইয়া বুঝাইতে পারুম না। তারপর ওইডা আমার চোখে একটা আঙ্গুলের নখ ঢুকাই দিছিলো। 

- বলেন কি। এরপর..?

- পরে আমি বেহুশ হইতে আছিলাম আস্তে আস্তে। কিন্তু বেহুশ হইবার আগে আমি দেখছিলাম হেয় আমার চোখ খুইলা খাইতেছিলো। আমার খালি একটা চোখ খোলা আছিলো। আর এইডা দেখার পর আমি বেহুশ হইয়া যাই। এরপর জ্ঞান আইছে যখন,তখন আমি আমারে হসলিটালে দেখি। আমার একটা চোখ তখন থেইকা নাই। পরে বউ বাচ্চা লইয়া আমি এই গেরামে চইলা আইছি। 

333333

- সো স্যাড। আপনার সাথে অনেক খারাপ হয়েছে। কিন্তু আপনি যেহেতু ওই অশরীরীকে নিজের চোখেই দেখেছেন। তবে এখানে আসতে ভয় পাননি কেনো?

- কারণ আমার বিশ্বাস, একদিন কেও আইবো,আর ওই অশরীরীরে মারবো। ওই গেরামে কেও যাইতে চায়না। আপনি যখন কইলেন ওখানে যাইবেন। তখন আমার মনে হইলো আপনি এই এলাকারে মুক্ত করবার লাইগা আইছেন। আমার কেন জানি মনে হইতাছে আপনে ওই অশরীরীরে মারতে আইছেন। গেরামের সবাইরে মুক্ত করবার লাইগা আইছেন।

- ভুল ধারণা। আমি শুধুই একজন লেখক। আর আমি এসেছি এই ঘটনাকে বইয়ের পাতায় তোলার জন্য। আচ্ছা,শেষ একটা কথা বলেছেন যে গ্রামের মানুষদের মুক্ত করার বিষয়ে। কিন্তু গ্রামে এমন হবে জেনেও মানুষরা পালিয়ে কেনো আসেনা। তারা গ্রামেই থেকে যাচ্ছে কেনো।

- এইডাই তো বরো পরবলেম।এই নদী দিয়া সবাই ওপারে যাইতে পারে,কিন্তু আইবার পারেনা। নৌকা নিজে নিজে ঢুইবা যায়। 

- মানে? তাহলে আমরা কিভাবে যাবো। এই ঘাটে তো কোনো মাঝি নেই। ওরা কিভাবে আসবে আমাদের নিতে।

- অপেক্ষা করা লাগবো আপনাগো। এহন কয়ডা বাজে দেহেন তো?

- রাত ১২ঃ৩৫। কেনো?

- আর অল্প কিছুক্ষন অপেক্ষা করেন। ১ টা বাজলেই ঘাটে একখান নৌকা ভাসা দিবো। হেনে মাঝি থাকবো না। আপনাগো নিজে থেইকা নৌকা চালাইতে হইবো। 

- ওহ মাই গড। এইটা যাষ্ট একটা হরর স্টোরি হবে। 

- বুঝিনাই স্যার, কিয়ের হুরুর ইসটরি।

- না তেমন কিছু না। আপনার ভাড়া কত?

- ৩২০ টাহা স্যার।

- এই নিন। আর ধন্যবাদ ইনফরমেশন দেওয়ার জন্য।

- কিয়ের ইনিমরেপসন? 

- না মানে তথ্য দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। 

- আচ্ছা স্যার। আমি তাইলে যাইগা।


এই বলেই ড্রাইভার গাড়িতে উঠে। এরপর সে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে যায়।  চারদিকে ফাকা মাঠ। বর্ষার সময় হলেও, কেমন যেনো কুয়াশার মতো হয়ে আছে সব। একটা নদী সামনে। তার উপর দুজন মানুষ একা দাঁড়িয়ে। ভয়ের একটা ইঙ্গিত দিচ্ছে ওদের বারবার। নিলয়ের প্রচুর ভয় লাগছে। সে পকেট থেকে একটা সিগারেট নিয়ে মাঠে বসে পড়ে। রিয়াজ খাতার উপর ড্রাইভারের বলা ঘটনাটা লেখা শুরু করে। নিলয় রিয়াজকে হটাৎ প্রশ্ন করলো," আচ্ছা রিয়াজ। আমরা ফিরে গেলে কেমন হয়? " রিয়াজ কিছুটা অবাক হয়ে নিলয়কে বলল," মানে কি। এতোদূর এসে তুই ফিরে যাবার কথা বলছিস? "। নিলয় একটু ভয়ের স্বরেই আবার জবাব দিচ্ছে, " না মানে দেখ। আমি ভাবিনি ঘটনা এতো ভয়ংকর হয়ে দাঁড়াবে। একটা অশরীরী লোকটার চোখ কিভাবে খুলে ফেললো। যদি সে আমাদের সামনেও এসে দাঁড়ায়? আর আমাদের চোখটাও যদি খুলে খেয়ে ফেলে? আমাদের কাছে না আছে কোনো শক্তি আর না আছে কোনো মন্ত্র জানা। যদি সে আমাদের মেরে ফেলে? "। রিয়াজ একটা স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে বলল," আমি আমার বই মার্কেটে হিট খাওয়ানোর জন্য যেহেতু নেমেছি। তবে আমি তা করেই যাবো। এতে যদি মৃত্যুর মুখোমুখি হতেই হয়,তবে হবোই"। নিলয় কথাটা শুনে আবার বলল,

- কিন্তু আমি তো এখানে নিশ্চিত মরণ দেখতে পাচ্ছি। দেখ,প্রথমদিনই আমাদের কি হাল হাচ্ছে। ফাকা একটা শনশান স্থানে এসে পড়লাম। এখন যদি কোনো অশরীরী এসে আমাদের উপর হামলা করে দেয়। বেচে ফেরার কোনো চান্সই নাই। তার উপর আবার ভৌতিক ভাবে নৌকা উঠবে। আবার সেই ভূতের নৌকায় আমাদের উঠতেও হবে। ব্যাপারটা বেশি হয়ে যাচ্ছেনা? এক কাজ করি বন্ধু। আমরা ফিরে যাই। 

- তুই কি পাগল হয়ে গেলি? ড্রাইভার তো বলেই গেলো যে এই নৌকায় যাওয়া যায়। বিপদ থাকলে তো সে আগে থেকেই বলে°°°° ( রিয়াজ কথার মাঝেই চুপ হয়ে গেলো।নিলয় অবাক হয়ে রিয়াজের দিকে তাকাই আছে। রিয়াজ কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আবার বলা শুরু করে) ওয়েট ওয়েট, একটা ব্যাপার তো খেয়ালই করলাম না। 

- কি?

4444444

- আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে নাতো?

- মানে? 

- একটা সিগারেট দে আগে।

( নিলয় একটা সিগারেট বের করে দেয়। রিয়াজ সিগারেট ধরিয়ে বলতে শুরু করে আবার)

- ড্রাইভার বলেছে গ্রামে যে কেও যেতে পারে,কিন্তু আসতে পারেনা। তাহলে প্রশ্ন,ড্রাইভার কিভাবে এলো?

( কথাটা শুনে নিলয়ও বেশ হতভাগ হয়ে যায়। নিলয়ও এইবার চিন্তা করে বলতে লাগলো)

- সত্যিই তো? ড্রাইভার তো ফিরে আসতে পারবেনা। তবে সে কিভাবে এলো? তাও বউ বাচ্চা নিয়ে?

- সেটাই তো। আর সে এইটাও বা জানে কিভাবে যে রাত ১ টায় নৌকা ভাসা দেয়। কারণ ড্রাইভার নিজেই বলল সেই গ্রামে নাকি কেও যায়না। যদি কেও না যায়,তবে এই ভাসা দেওয়া নৌকার ব্যাপারেও কারো জানার কথা না। তবে ড্রাইভার কিভাবে জানলো? আর নদীর ওপাড়েই যে গালকাটা কবরস্থান, তার গ্যারান্টি কি?

- শিট,আমার ভয় হচ্ছে রিয়াজ। কোনোভাবে আমরা ফেসে যাইনি তো?

- বুঝতেছিনা। কিন্তু আরেকটা কথা,আমরা শুনেছি একটা অশরীরী মানুষদের খুন করতেছে। তাহলে ড্রাইভার কিভাবে বেচে গেলো? অশরীরীর সামনে পড়ে যাওয়া মানেই তো মৃত্যু। 

- তবে কি এইটা কোনো ড্রাইভার নয়?


কথাটা বলেই নিলয় তাকিয়ে আছে রিয়াজের দিকে,আর রিয়াজ তাকিয়ে আছে নিলয়ের দিকে। তাদের সাথে হয়তো খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে। তারা এতক্ষণ একটা মৃত মানুষের সাথে ছিলো। আর তাদের এখানে এনেছেও একটা মৃত মানুষ। 


চলবে....?

555555



গল্প- ভয়ংকর চাহনি ( পর্ব-০৩)

 

00000

গল্প- ভয়ংকর চাহনি ( পর্ব-০৩)

লেখক- Riaz Raj




111111

----------------------

মেহেদি একটা ছুরি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।চোখ প্রচণ্ড লাল।মুখ পচাগলা হয়ে আছে।মেহেদির চোখ গুলো খুবি ভয়ংকর। এক ভয়ংকর চাহনি তার চোখে।শুভও জোরে এক চিৎকার দিয়ে উঠে।


এদিকে মেঘা ওয়াশরুমে আকাশকে দেখে পিছু দৌড়াতে চেষ্টা করলো।আখির গলার কন্ঠে আকাশ কিভাবে ডাকতে পারে।মেঘা পালাতে চেয়েও পারেনি যেতে।পা দুটো যেনো কেও শক্ত করে বেধে দিয়েছে।মেঘা জোরে এক চিৎকার দেয়। মেঘার চিৎকারে জেগে যায়, সাদিয়া,রশনী,আর সুমাইয়া।ওরা বিছানা ছেড়ে সবাই ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে আসে।ওয়াশরুমে আসতেই ওরা দেখে মেঘার বুকে কেও শতশত ছুরির আঘাত করে রেখেছে।কেও যেনো মেঘার বুকে ছুরি মেরে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে মেঘার বডি। মেঘার এমন অবস্থা দেখে রশনী,সাদিয়া আর সুমাইয়া চিৎকার দিয়ে উঠে।তাদের চিৎকারের শব্দ পুরো গার্ল হোস্টেল কাপিয়ে দেয়।সবাই বরাবরের মতো তাদের দরজার সামনে চলে আসে। ভিতর থেকে কোনো সাড়াশব্দহীন নেই। দরজায় বাহির থেকে আঘাত করতেই দরজা খুলে যায়। সবাই রুমের ভিতর ঢুকে দেখে,সবাই ফ্লোরে পড়ে আছে। কারো হাত-পা কাটা।কারো শরীর থেকে মাথা আলাদা। কারো বুকের উপর এলোপাথাড়ি ছুরির আঘাত।


এদিকে শুভ দরজার বাহিরে মেহেদিকে দেখে আবার দৌড়ে রুমে ঢুকে যায়। এরপর রাকিবকে ধাক্কা দিয়ে বিছানা থেকে টেনে নামায়। শুভ কিছু বলার আগেই রাকিব বলল,

- আরেহ,গার্ল হোস্টেল থেকে কিসের হৈচৈ আসছে? চল জলদি গিয়ে দেখি।

শুভ আর কিছু না বলে রাকিবের কথায় সায় দেয়।রাকিব দরজা খুলে বের হয়।শুভ খেয়াল করে দরজায় মেহেদির আত্মা নেই।ওরাও সবার মতো দৌড়ে যায় গার্ল হোস্টেলে। রাকিব আর শুভ হোস্টেলে যেতে যেতে ওখানে লোকের ভিড় জমে গেছে। শুভ আর রাকিব লাশগুলো এক পলক দেখে আবার ফিরে আসে।এতো ভয়ংকর আর হিংশ্র কে হতে পারে।প্রশ্ন সবার মুখে মুখে।পুলিশ হাজারো তদন্ত চালিয়ে ফলাফল শূন্য পাচ্ছে। কেস বন্ধ হয়ে যায় প্রমানের অভাবে।  এইটা নতুন কিছু নয়। এরকম হাজার কেস বন্ধ হয়ে এসেছে।কেও টাকার জোরে বেচে যায়,কেও পাওয়ার খাটিয়ে স্বাধীন হয়ে যায়। সঠিক বিচার পায়না অনেক অসহায় মানুষ।ধর্ষণের বিচার হয়না কোটিপতি বাবার ছেলেদের।খুনের বিচার হয়না পাওয়ার হাতে থাকা লোকদের।আদালত যেনো মনে মনে বলে," বিচার চাহিয়া লজ্জা দিবেন না"।

2222222

তাদের জন্য এরকম কেও নিশ্চয় দরকার।যারা অদৃশ্য, যারা ঝাপসা হয়ে থাকে।যাদের স্পর্শ করার সুযোগ থাকে কিন্তু করতে পারেনা।তারা ছায়া।তারা অন্ধকার জগতে কালোমানব।হোক তার সাইকো।বিচার তো করবে সঠিক।

- এই রাখ তো? কিসব বলে যাচ্ছিস। কথার আগামাথা কিছুই নেই তোর।তোর এই রহস্যময় কথাগুলো সব সময় আমার মাথার কোনদিক দিয়ে যেনো যায়।

- কেন। খারাপ কি বললাম।তোর হোস্টেলে মেহেদির সাথে যে কাজটা হয়েছে।হতে পারে সেটা কোনো এমনি মানব।যে আড়াল থেকে বিচার করে। মেহেদি অপরাধী ছিলো।সাথে তোরাও অপরাধী। তোদের সাহায্য করলে তো আমিও ফেসে যেতে পারি।

- রিয়াজ, এইভাবে কেনো বলছিস। তোকে গ্রাম থেকে এখানে এনেছি এসব বলার জন্য? আমরা মানছি আমাদের ভুল হয়েছে।কিন্তু মেহেদি তো ভুলের মাশুল দিয়েছে।আমার মনে হয় তুই আমাদের বাচাতে পারবি।

- আচ্ছা? আজ অব্দি আমাকে কোনো ভূত প্রেত বশ করতে দেখেছিস? আমি কি করে তোদের বাচাবো? এখানে এসে তো এখন আমার নিজেরি ভয় হচ্ছে।আমি জীবন নিয়ে যেতে পারবো কিনা কে জানে।

- তোকে ছোট বেলা থেকে চিনি আমি।খুবই সহজ সরল, কিন্তু রহস্যময়।তোর ছোটবেলার কথা মনে আছে? একটা পাখি তোর সাথে কথা বলেছিলো? তুই তোর আম্মুকে বলিস নি। সে পাখি তোকে বলেছিলো দরকার হলে ডাক দেওয়ার জন্য। আজ তো আমরা বিপদে।তাকে একটু স্বরণ কর ভাই প্লিজ।

-  ওহ শিট! এই কথা আমার মাথায় আগে কেনো আসেনি। তাহলে তো সেদিনের রহস্য খুজে পেতাম।

- কিসের রহস্য?

- কয়দিন আগে আমার সাথে এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে।খুব অদ্ভুত ঘটনা। একটা অদ্ভুত মেয়ের সাথেও দেখা হয়।মেয়েটি অনেক রহস্যময়ী। ( সম্মানিত পাঠক বৃন্দ।রিয়াজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে একটা গল্প আছে।যেটা এই গল্পের সিজন-১ নামে পরিচিত।যারা পড়েনি। তারা গল্পের লিংক গ্রুপ গুলোতে গল্পটার নাম লিখে চেয়ে নিন।গল্পের নাম "ইভিল মিস্ট্রি 

"। লেখক আমি নিজেই) 

333333

- তো আমাকে খুলে বল? কি হয়েছিলো?

- বাদ দে না। এখন শুন। তোদের ঝামেলাটা নিয়ে কথা বল। গুগোল সার্চ করি চল।কোনো এক কবিরাজের কাছে গিয়ে আমরা মেহেদির আত্মাকে হাজির করাবো।এরপর তাকে জিজ্ঞেস করবো তার ইচ্ছে কি।সে কেনো ফিরে এসেছে।আর কেনো এসব করছে।

- এরকম কবিরাজ আদৌ কি আছে?

- আলী বাবা নামক এক জ্যোতিষী আছে।আমি উনার পেজ ফলো করি সব সময়।চল উনার কাছে যাই।যতদূর জানি গাজীপুর চৌ-রাস্তার উত্তরে উনার বাসা। গিয়ে কাওকে জিজ্ঞেস করে নিবো।

- তো এখুনি চল?

- কি বলিস। রাত ৮ টা বাজে এখন।

- এদিকে জীবনের ১২ টা বাজতে চলছে। চল।

- ওকে।


রিয়াজ, রাকিব আর শুভ রওনা হয় গা

জীপুর। যানজট অতিক্রম করে প্রায় ৩ ঘন্টা পর তারা গাজীপুর পৌঁছায়। রাত ১১:৪৭ মিনিট। অনেক কষ্টে তারা আলী বাবার ঠিকানা বের করে।বাসায় ঢুকতেই আলী বাবার এক কর্মচারী দরজা খোলে। এরপর রিয়াজ আলী বাবার সামনে গিয়ে বলল,

- ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এতো রাত বিরক্ত করার জন্য।আসলে আমি চাইনি এতো রাতে আসতে।কিন্তু পরিস্থিতি বাধ্য করছে।ক্ষমার চোখে দেখবেন।

- তোমার আসার কথা আমি আগেই জানতাম। ১০টায় ঘুমিয়ে যাই আমি।কি হয়েছে তোমাদের সব জানি আমি। বসো নিছে। 

রিয়াজ, শুভ আর রাকিব ফ্লোরে বসে পড়ে।অবাক হয়ে যায় তারা। এই আলী বাবা মিছে কোনো জ্যোতিষী নয়,তা বুঝা যাচ্ছে।কর্মচারী একটা মোমবাতি জ্বালায়।এদিকে লাইট অফ করে দেয় আরেকজন।রুম অন্ধকার। একটা মোমবাতির আলোয় রুমটা কোনোভাবে উজ্জ্বল হয়ে আছে। উনি চোখ বন্ধ করে রিয়াজদের উদ্দেশ্যে বলল।

- মোমবাতি নিভে গেলে পুরো রুম অন্ধকার হয়ে যাবে। এই রুমে মোট ৩ টা আত্মা আসবে। 

উনার কথা শুনে রিয়াজ বলল,

- ৩টা কেনো? আমরা তো শুধু মেহেদির আত্মার সাথে কথা বলতে চেয়েছি।

- আত্মারা আসলে বুঝে যাবে তোমরা। এখন সবাই সবার হাত ধরো শক্ত করে। আর হ্যা,আত্মার সাথে যেকোনো একজন কথা বলবে। 

- আমি নিজেই বলবো সমস্যা নেই।

- ঠিক আছে।


আলী বাবা বিড়বিড় করে কিছু পড়তে শুরু করে।রিয়াজ, শুভ আর রাকিব আলী বাবার দিকে তাকিয়ে আছে।রুম ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে শুরু করেছে।পরিস্থিতি বদলানো শুরু হয়েছে। এইবার সবার ফোকাস হচ্ছে মোমবাতি। মোমবাতি যেকোনো সময় নিভে যেতে পারে।আর রিয়াজের প্রশ্নের ঝুড়ি ছুড়তে হবে তখন।দেখতে দেখতে টুপ করে মোমবাতি নিভে যায়। রিয়াজ কিছুই দেখতে পায়না।তখনি রুমের কোনো কোনা থেকে মেহেদির গলার আওয়াজ ভেসে আসলো।

- আমাকে ডাকা হয়েছে কেনো?

রিয়াজ মেহেদির গলা শুনেই উত্তর দিলো,

- আপনার সাহায্য দরকার আমাদের।যদি আপত্তি না থাকে তাহলে বলবো?

- বলতে পারো।

- আপনি তো মারা গেছেন।তবে ফিরে এলেন কিভাবে?

- তোমরা ডেকেছো তাই।

- কিন্তু শুভ আর রাকিবকে বিরক্ত কেনো করেছেন?

- ওটা আমি নই।আমি কাওকে বিরক্ত করছিনা। মৃত্যুর পর কেও ফিরে আসতে পারেনা।আত্মাদের ডাকতে হয়।তারপর তারা হাজির হয়।

- তবে ওরা কাকে দেখেছে?

- তা একটা রহস্য। তোমাকে খুঁজতে হবে সেটা। 

- আত্মাদের আমি কিভাবে খুঁজবো।

- তারা আত্মা নয়। মৃত মানুষ কখনো ফিরে আসেনা। যারা আমাদের রুপ নিয়ে এসব করছে,তাদের খুঁজতে হবে তোমাকে।একটা কথা বলি তোমাকে।এই সব কিছু কারো ইশারায় হচ্ছে।আমাদের মাথায় ধর্ষনের চিন্তাটা আমাদের ইচ্ছেতে নয়।তা কারো ইশারায় হয়েছে।এখন যা কিছু হচ্ছে,সব তার ইচ্ছেতে হচ্ছে। আর আসল কথা এইটাই।তোমার জন্ম সাধারণ ভাবে হয়নি,আর তুমি সাধারণ কেও নাহে।তুমি এমন একজন লোক,যে ছদ্মবেশী এক ছায়া। 

- আমি আপনার কথা ঠিক বুঝলাম না।

রিয়াজের কথায় আর মেহেদি উত্তর দেয়নি।এইবার একটা মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসে।

- আমাকে কেনো ডাকা হয়েছে।

- আপনি কে আবার।

- আমি আখি।কয়দিন আগে মৃত্যু হয়েছে আমার।

- আপনি এসেছেন কেনো? আপনাকে দিয়ে কি করবো।

- কারণ তোমার সাথে জড়িত আমরা। তোমার সূত্র থেকে আমাদের জন্ম। 

- কিসের সূত্র?

- তোমার মুখে কোন কথাটা বেশি বিরাজ করে? 

রিয়াজ কিছু বলতে চেয়েও,বলতে পারেনি।অটোমেটিক তার মুখ থেকে সেই প্রবাদটা বের হয়ে যায়।

- কিছু মুহূর্তে এমন কিছু ঘটনা সামনে ভেসে উঠে,তা বুঝে নিতেই লাগে রহস্য। রহস্য দিয়ে শুরু কিছু ঘটনা ঘটতে থাকে রহস্য দিয়েই।আবার রহস্য দিয়ে চলতে থেকে,হটাৎ রহস্য নিয়েই শেষ হয়। রহস্য নিয়ে শেষ হওয়া ঘটনা কোনো একদিন আবার রহস্যরুপে শুরু হয়। আবার চলতে থাকে রহস্য।নিয়তি এমনই।শেষ থেকে শুরু আর শুরু থেকে শেষ করে।তার অস্তিত্ব নামক একটা শব্দ হচ্ছে রহস্য।

- এইটাই।এই সূত্র থেকে আমাদের জন্ম।আর সূত্রের জন্মদাতা তুমি নিজেই।এই সব কিছু আমাদের নয়, বরং কারো ইশারায় হচ্ছে।

- কিন্তু সে কে? কে এমন ইশারা করছে।নাম কি তার? 

আগের মতো এইবারও মেয়েলী কন্ঠে অন্য আত্মা জবাব দিচ্ছে।

- আমাকে ডাকা হয়েছে কেন?

- আপনি কে আবার।

- আমি মিম। মেহেদি, শুভ আর রাকিব আমাকে ধর্ষণ করেছিলো।

- ও আচ্ছা! তারমানে সব আপনার ইশারায় হচ্ছে?

- না। আমার ধর্ষণটাও কারো ইশারায় হয়েছে। প্রতিশোধ আমি নিতে পারবোনা।কারণ আত্মারা প্রতিশোধ নিতে আসেনা। তুমি এগিয়ে যাও। তোমার বাড়িতে সব রহস্য লুকিয়ে আছে। তুমি চেষ্টা করো। আমাদের সাথের ঘটনা কিছু নয়।এইটা ছোট একটি নমুনা।  সব কিছু তোমাকে ইঙ্গিত করে হচ্ছে। তুমি মানুষ নয়। মানুষ রুপী এক ছায়া।

- কিন্তু কার ইশারায় হচ্ছে বলবেন তো।

444444

আর কোনো জবাব আসেনি। হটাৎ আলী বাবা এক চিৎকার দেয়। সাথে সাথে কর্মচারী লাইট অন করে। লাইটের আলোয় রিয়াজ,রাকিব আর শুভ যা দেখেছে,তা কাল্পনাতেও ছিলোনা তাদের। আলী বাবার দেহে কেও নখের আছড় দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে।উনার নাক থেকে রক্ত ঝরছিল।  অনেক কষ্টে উনি বলল,

- রিয়াজ,তুমি জাগাও তোমার ভিতরের সত্বা টাকে।সে ঘুমিয়ে আছে। যতদিন সে ঘুমিয়ে থাকবে,ততদিন বিপদ বাড়তে থাকবে। বাচাতে হবে সবাইকে।তুমি জগিয়ে তোলো।জাগিয়ে তোলো তাকে।

বলেই আলী বাবা ফ্লোরে পড়ে মারায় যায়। ওরা তিনজন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে উনার দিকে।কর্মচারী রিয়াজের উদ্দেশ্যে বলল,

- আলী বাবা আজ সন্ধ্যা ৭ টায় মৃত্যুবরণ করেছে। কবর দেওয়ার সময় তিনি জেগে উঠেন হটাৎ করে।আর বলেছে আপনারা আসবেন,আর আপনাদের কাজ করে সে আবার মৃত্যুবরণ করবে।

- কিহহ,কেও জানেনা এইটা?

- না।উনি নিজেই বলেছিলো।উনি মোট দুইবার মৃত্যুবরণ করবে।আর প্রথম মৃত্যুর সংবাদ যেনো আমরা কর্মচারীরা ছাড়া কেও না জানে।তাই গোপন রেখেছিলাম আমরা।


চলবে.............

555555



গল্প- ইভিল মিস্ট্রি - Evil mystery ( পর্ব-০৩ ও শেষ)

 গল্প- ইভিল মিস্ট্রি - Evil mystery ( পর্ব-০৩ ও শেষ)  

লেখক- Riaz_Raj


111111


-----------------------------

রিয়াজের ঠোটের উপর থেকে,দুইটা দাত বের হয়ে এসেছে।দেহের সাইজ আগের থেকে বড় হয়ে গেছে।৬ ফুটের উপরে থাকা রিয়াজ হটাৎ প্রায় ১২ ফুট লম্বা হয়ে গেছে।রশনী ভয়ে কপতে লাগলো।রিয়াজ ভয়ংকর গর্জন ছেড়ে রশনীর দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।এক মুহূর্তের জন্য রশনীর মনে হচ্ছে,একটা নেকড়ে মানব তার দিকে তেড়ে আসছে।


রশনী চোখ বন্ধ করে জোরে চিৎকার দিতে লাগলো।তার গলার স্বর পুরো গুহা জুড়ে ছুটাছুটি করছে। এর মধ্যেই একটা বিকট শব্দ রশনীর কানে বাধে।রশনী বুঝতে পারে পুরো গুহা স্তব্ধ হয়ে গেছে।

ধীরে ধীরে রশনী চোখের পাতা খোলে। আর দেখতে পায় শুধু একটা প্যান্ট পরিহিত মানব তার সামনে শুয়ে আছে। যেনো উপর থেকে কেও পড়েছে।রশনী বুঝতে পারে এইটা রিয়াজ। এগিয়ে যাবে নাকি পালাবে সেটাই ভাবছে সে। কিন্তু রিয়াজ মাটিতে কেনো শুয়ে আছে। রশনী মনে সাহস নিয়ে রিয়াজের দিকে এগিয়ে যায়। রিয়াজ মাটিতেই শুয়ে আছে। এদিকে গুহার দেয়ালে আগুন জ্বালিয়ে থাকায়,স্পষ্ট দেখা যায় সব। রশনী গিয়ে রিয়াজের পিট স্পর্শ করতেই অনুভব করে তার পুরো দেহ গরম হয়ে আছে।অতিরিক্ত গরম। রশনী আবার ছুটে যায় সেই পুকুর পাড়ে।আর হাতের খোলসে করে একটু পানি নিয়ে আসে। রিয়াজের সামনে বসে রশনী সব পানি রিয়াজের মুখে ফেলে।কিছুক্ষণ পর লাফ মেরে উঠে রিয়াজ।রিয়াজের এমন হটাৎ জেগে উঠাতেও ভয় পায় রশনী।  এরপর রিয়াজ বলল,

- কি হয়েছিলো।দানবটা শুয়ে আছে কেন? আপনি মেরেছেন?

22222

- দানবকে দানব শুইয়েছে।

- বুঝলাম না।

- অভিনয় করছেন? আমি দেখেছি আপনার রুপ। এখন মিথ্যে বলে লাভ কি।

- অদ্ভুত তো! কিসের মিথ্যে আর কিসের রুপ।

রশনী রিয়াজের কথায় কিছু রহস্য বুঝতে পারে।হয়তো নিজের সেই ভয়ংকর রুপের কথা রিয়াজের অজানা।তাই রশনী আবার বলল।

- আপনার সত্যি কিছু মনে নেই?

- আছে। দেখেছি একটা দানব।আর তারপর চোখ মেলে দেখি আপনি সামনে।এর বাহিরে কি হয়েছে।

- আপনি কি জানেন? আপনি নিজে একটা দানব?

- হাহাহা। এতো সুন্দর জোক্স পারেন আপনি? কিন্তু সরি। পকেটে এখন একটাও কানাকড়ি নেই। ইনাম দিতে পারলাম না।

- আজব তো।মজা করছেন আপনি? সত্যিই আপনি দানব।হটাৎ দানব হয়ে গিয়েছিলেন।আপনার শার্ট ছিড়ে গেছে।

- শার্ট নেই তা তো আমিও দেখছি।কিন্তু আপনি ছিঁড়েন নি তো?

- কিসব বলছেন।আমি সত্যিই দেখেছি আপনার দানব রুপ।

- আচ্ছা মেনে নিলাম আমি দানব হয়েছি।তো আপনাকে ছেড়ে দিলাম কেন।

- আমিও বুঝতে পারছিনা।

- শার্ট ছাড়া ভালো লাগছেনা।আপনার গেঞ্জিটা দিন।

- মানে? আমি কি পড়বো?

- তাও তো কথা।আচ্ছা চলুন।এগিয়ে যাই।এখান থেকে বের হতে হবে।

33333

রিয়াজ আর রশনী আবার এগিয়ে যেতে লাগলো।রশনীর কথা রিয়াজ মোটেও বিশ্বাস করেনি।রিয়াজ ভাবছে রশনী নিজেই হয়তো দানব মেরে এখন নিজের পরিচয় লুকাচ্ছে।যাইহোক, বেচে গেছে এইটাই বেশি। তাই রিয়াজ চুপচাপ হেটে চলছে। কিছুদূর যাওয়ার পর ওরা দেখে সামনে আরেকটা দরজা। রিয়াজ বলল,

- আবার কোন দানব আছে কে জানে। আপনি দরজা খোলেন।আমি তো ভুলের মনেও যাচ্ছিনা।

- আরেহ,কেমন মানুষ আপনি? আমাকে একা ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন?

- একা কই।দৌড়ে পালানোর জন্য তো আমি আছিই।

রশনী এইবার শিওর। রিয়াজ হয়তো তার অলৌকিক সেই শক্তির কথা জানেনা।তবে রশনী নিজে এইবার সাহস পেয়েছে।বিপদ আসলে হয়তো রিয়াজ এমনিই দানব হয়ে যাবে।তাই নিজে গিয়ে দরজা খুলতে যাচ্ছে রশনী।কিন্তু সিস্টেম এবার অন্য রকম। কোনো পুতুল বা পাথর নেই। রশনী রিয়াজকে ডাক দেয়।রিয়াজ আসার পর বলল,

- দরজা যেহেতু আছে,সিকিউরিটি নিশ্চয় আছে। আর আনলক করার একটা উপায় তো আছেই। খুঁজুন। রহস্য এখানেই কোথাও।

- কিসের রহস্য? 

- আমার বাবার ডায়েরিতে একটা প্রবাদ আছে। 

- কেমন।

- কিছু মুহূর্তে এমন কিছু ঘটনা সামনে ভেসে উঠে,তা বুঝে নিতেই লাগে রহস্য। রহস্য দিয়ে শুরু কিছু ঘটনা ঘটতে থাকে রহস্য দিয়েই।আবার রহস্য দিয়ে চলতে থেকে,হটাৎ রহস্য নিয়েই শেষ হয়। রহস্য নিয়ে শেষ হওয়া ঘটনা কোনো একদিন আবার রহস্যরুপে শুরু হয়। আবার চলতে থাকে রহস্য।নিয়তি এমনই।শেষ থেকে শুরু আর শুরু থেকে শেষ করে।তার অস্তিত্ব নামক একটা শব্দ হচ্ছে রহস্য।

- এইটার সাথে দরজার কি মিল? 

- রহস্য এখানেও। আমাদের এখানে আসাটা একটা রহস্য।যা এখনো জানিনা আমরা।রহস্য নিয়েই চলছি আমরা।আবার রহস্যের মধ্যেই শেষ হবে। তা খোঁজে বের করাই সফলতা। নিশ্চয় আশেপাশে একটা ক্লু আছে।খুঁজুন।

- হতে পারে এই দরজার সিকিউরিটি ওপাশ থেকে সেট করা।

- গুহা দেখে সাধারণ তো মনে হচ্ছেনা। দুইদিকেই সিকিউরিটি আছে।চলুন এক সাথে খুঁজি।


রিয়াজ আর রশনী দরজার দুইপাশ খুঁজতে শুরু করে। তখনি রিয়াজ বলল,

- দেখো,এখানে কিসের যেনো একটা চিত্র আছে।

রশনী দৌড়ে আসে চিত্র দেখার জন্য।এসেই রশনী অবাক হয়ে যায়। চিত্রটা একটা দানবের মুখের। বড় বড় দাত আর ভয়ংকর চোখের চিহ্ন। রশনী বলল,

- এইটা কিভাবে হতে পারে?

- কেনো?  কি হয়েছে?

44444

- আমি বুঝে গেছি।আমাদের এখানে আসাটা আগে থেকেই ঠিক করা ছিলো।অর্থাৎ কেও একজন আমাদের এসব পরিস্থিতিতে ফেলেছে। কারো ইশারায় হচ্ছে এসব।আপনার কথা সত্য। রহস্য আছে এখানে।

- চিত্রটা দেখে অবাক হচ্ছেন কেন?

- কারণ এই একই রকম চিহ্ন আমার বুকে আছে।

- মানে? দেখি? 

- কি? লজ্জা নেই নাকি আপনার।

- ও সরি।এতো গভীরে চিত্র থাকবে আমি জানতাম নাকি।কিন্তু আপনি লাগিয়েছেন কেন এইটা।

- এই চিহ্ন জন্মের পর থেকেই এখানে।বুকের ডান পাশে। তবে একেবারে গভীরে না।উপরেই আছে।

- তো এখন এর কাজ কিভাবে করবেন।

- আমি বুঝতেছিনা।

এইটা বলে রশনী আবার সেই চিহ্ন দেখতে লাগলো। দেখতে দেখতে এক পর্যায় চিহ্নটির কাছে যায় রশনী। তখনি অদ্ভুত ভাবে রশনীর বুকের চিহ্নটি জ্বলে উঠলো।সাথে সাথে দেওয়ালের চিহ্নটিও জ্বলে উঠে।যেনো জেগে উঠেছে চিত্রটা।রিয়াজ বলল,

- কিছু একটা হতে যাচ্ছে।সরবেন না। এক কাজ করুন।আপনি বুকের চিত্রটা দেওয়ালের চিত্র বরাবর করুন।দেখুন কি হয়।


রিয়াজের কথায় রশনী দুইটা চিত্র বরাবর করে।আর অদ্ভুত ভাবে দরজা খুলে যায়। দরজার বাহিরে তাকাতেই রিয়াজ আর রশনী খুশিতে লাফ মেরে উঠেছে।ওপাশে জঙ্গল দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ গুহার শেষ এইটাই। ওরা পাগলের মতো ছুটে বের হয় গুহা থেকে।দরজা পেরিয়ে দুজন নাচতে শুরু করে।এরপর পিছনে গুহার দিকে তাকিয়ে দেখে,পিছনে কোনো গুহা নেই।শুধু জঙ্গল আর জঙ্গল।অবাক হয়ে যায় ওরা দুজন। মাত্র তারা গুহা থেকে বের হয়েছে।গুহাটা গেলো কোথায়। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।তখনি তারা শুনতে পায়,গাড়ির হর্ন বাজতেছে আশেপাশে। তড়িঘড়ি করে দুজনেই শব্দ বরাবর ছুটতে লাগলো।কিছুদূর গিয়ে তারা দেখে,সামনে হাইওয়ে রোড ।যেখানে গাড়ি চলাচল করছে।মুচকি হাসি দিয়ে উঠে দুজনেই।


- হ্যা মা।সত্যি বলছি।এমন সব অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে।যা কল্পনার বাহিরে ছিলো।

- তুই কেনো গিয়েছিলি ঝগড়া থামাতে।

- মা তুমি বুঝোনা কেন।যা হয়েছে,সব হবারই কথা ছিলো।কেও একজন করেছে এসব।সে সব জানে।কিন্তু কে সে..?

- শুন বাবা।এসব কিছু নয়। হতে পারে কোনো যাদুকর ভুল করে তোদের নিয়ে গেছে।দেখ,তুই এখন আবার বাড়িতে চলে এসেছিস।আজ দুইদিন থেকে তো কিছুই হয়নি। আর রশনী নামক মেয়েটাকে আমার সুবিধা মনে হচ্ছেনা।সে হয়তো করেছে এসব।

- না মা।মেয়েটা নিজেও ভয় পাচ্ছিলো। সেও হয়তো আমার মতো মিষ্টেকে চলে গেছে।আজকাল যাদুকররা এতো ভুল কিভাবে করে।

55555

মেঘা চলে যায় উপরে।রিয়াজ সোফায় বসে আছে।সেদিন গাড়ি পেয়েই রিয়াজ বাসায় চলে আসে।আর রশনীও চলে যায় তার বাসায়।কেও কারো ঠিকানাটাও জানতে চায়নি। কিন্তু যতই মেঘা রিয়াজকে ভুল প্রমাণিত করুক।রিয়াজ জানে,এসব কেও একজন ইচ্ছে করেই করেছে।কারো ইশারায় হয়েছে এসব।কিন্তু রশনী মেয়েটা অদ্ভুত ছিলো।তার গায়ে শক্তি।আবার বুকের চিহ্ন আর গুহার চিহ্নের মিল।হটাৎ ভাঙ্গা বাড়িতে প্রবেশ।সব অদ্ভুত। তবে তার একটা কথা রিয়াজকে খুব হাসাচ্ছে।রিয়াজকে দানব দাবী করাটা হাস্যকর রিয়াজের কাছে।রিয়াজ ভাবলো,মেয়েটা হয়তো রহস্য বাড়াতে গিয়ে বেশিই অবিশ্বাস্য কথা বলে ফেলেছে।কিন্তু বাকি গুলা হিসেব করলে এইটাও সত্য লাগে। কিজানি, রিয়াজ চিন্তা করা বন্ধ করে ফোন টিপছে।


অন্যদিকে রশনী তার বাসায় বসে বসে চিন্তা করছে। একটা মানুষ দানব হয় কিভাবে। 


অন্যদিকে মেঘা নিজের রুমে গিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে যায়। ডিওএমএম এর নজর আবার রিয়াজের উপর পড়েনি তো? 


************** সমাপ্ত************

66666



9:42

 


                          DOWNLOAD


                         Open the video


                             Play know

    

                             HD VIEW



যদি ভিডিও টি ওপেন না হয় নিচের লিংক এ ক্লিক করুন 👇


https//wwwkhslinkopenforvideo.com

পিশাচ সুন্দরী ( পর্ব-০৫)

 গল্প- পিশাচ সুন্দরী ( পর্ব-০৫)


লেখক- রিয়াজ রাজ 



----------------------------------

এদিকে রিয়াজের বাবা মা দৌড়ে আসে। বাহির থেকে দরজা পেটাচ্ছে ওরা। তাজকিয়া দৌড়ে দরজা খুলতে যাবে,তখনি রিয়াজ তাজকিয়ার চুলের মুঠি ধরে জোরে ফ্লোরে আছাড় মেরে দেয়। 


ফ্লোরে সজোরে আছাড় খাওয়ায় তাজকিয়ার মাথা কিছুটা ফেটে যায়। রক্ত বের হয়ে ফ্লোর যেনো ভেসে যাচ্ছে। অন্যদিকে রিয়াজের মা বাবা বাহির থেকে দরজা পিটিয়েই যাচ্ছে। রিয়াজ দরজার কাছে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলো। রিয়াজের মা বাবা তাজকিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লোরে দেখে অবাক হয়ে যায়। রিয়াজের মুখে যেনো কাল বৈশাখীর ঝড় দেখা যাচ্ছে। পুরা মুখ রাগে কালো হয়ে আছে। রিয়াজের মা দৌড়ে তাজকিয়ার কাছে আসে। এদিকে রিয়াজ গেঞ্জিটা হাতে নিয়ে পড়ে নেয়। এরপর রুম থেকে বের হয়ে যায়। রিয়াজের বাবা তাজকিয়াকে কোলে নিয়ে বের হয়ে আসছে। রিয়াজের মা রিয়াজের এমন আচরণ দেখে অবাকই হচ্ছে। তাজকিয়া বেহুশ হয়ে যায়। হসপিটালে নেওয়ার জন্য সবাই তাড়াহুড়ো করলেও,রিয়াজ নিছে এসে সোফায় বসে টিভি অন করে দেয়। অদ্ভুত সব কান্ড রিয়াজের মায়ের সহ্য হয়নি। তাজকিয়াকে নিয়ে রিয়াজের বাবা বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। পাশের গলিতেই হসপিটাল আছে। এদিকে রিয়াজের মা রিয়াজকে বলে উঠলো," তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? কি হয়েছে তো? তাজকিয়াকে এমনভাবে মারলি কেন? বের হয়ে যা আমার বাসা থেকে"।  রিয়াজের মা কথাটা শেষ না করতেই রিয়াজ হাতে থাকা রিমোট ছুড়ে মারে ওর মায়ের দিকে। কপাল ফেটে যায় উনারও। রিয়াজের মা ব্যাথার থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। রিয়াজ শেষমেশ ওর মাকে আঘাত করলো। এইটাও সহ্য হয়নি উনার। উনি আর আর কিছু না বলে সোজা বের হয়ে যায়। রওনা দেয় হসপিটালের দিকে। তাজকিয়াকে আগে সুস্থ করতে হবে। 


ঘটনা এমন এক পর্যায়ে দাড়িয়েছে। যেখানে রিয়াজ না করছে কাওকে পরোয়া।  আর না পাচ্ছে ভয়। ওর মাঝে কি সেই পিশাচ অবস্থান করছে? নাকি আলাদা কোনো মায়া চালিয়ে দিচ্ছে। রিয়াজ এখন আর নিজের কন্ট্রোলে নেই । কিন্তু প্রশ্ন এক জায়গায়, পিশাচটা এমন কেনো করছে। রিয়াজকেই বা কেনো? রহস্য।  প্রতিটি স্টেপে রহস্য হেলছে। যার সমাধান কারো জানা নেই। কারো না। 


এদিকে তাজকিয়ার জ্ঞান ফিরে।  ডক্টর ব্যান্ডেজ করে দেয় তাজকিয়াকে,সাথে রিয়াজের মাকেও। ভয়ে ওরা আর নিজেদের বাড়ি ফিরেনি। তিনজন মিলেই চলে যায় তাজকিয়াদের বাসায়। তাজকিয়ার বাসায় এ নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়। কারণ তাজকিয়া আগেই বুঝতে পেরেছে অলৌকিক কোনো শক্তির হাত আছে। আজকের ঘটনার পর নিশ্চিত হয় সে। এখন আর কারো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছেনা। সবাই বুঝে গেছে রিয়াজের শরীরে ভূত প্রবেশ করেছে। চিন্তিত পুরো পরিবার। তাজকিয়ার মা বাবা আর রিয়াজের মা বাবা দুই পরিবারই হতাশ ।  এর সমাধান কি? তখনি রিয়াজের বাবা হোসেন সাহেব বলে উঠলো," সামনেই তো মন্টু কবিরাজের দোকান আছে। আমরা কি উনার কাছে যাবো? হয়তো কোনো সমাধান উনিই দিবেন?"।  হোসেন সাহেবের কথায় সবাই সম্মতি জানালো। সাথে সাথেই সবাই বের হয়ে যায়। রিয়াজের বাসা থেকে মন্টু কবিরাজের দোকান দেড় কিলো হলেও,তাজকিয়ার বাসা থেকে মাত্র ৬ মিনিট লাগে । 


রাস্তায় নেমে পড়ে পুরো পরিবার  । সবার চোখে কান্নার ভাব। কেও কাদছে কষ্টে,কেও কাদছে ভয়ে। কারণ রিয়াজের কিছু হলে দুই পারিবারই ভেঙ্গে যাবে । আর এই পরিবার আজ থেকে নয়,গত ৯ বছর যাবত মিলেমিশে আছে। সম্পর্ক শক্ত করার জন্যেই তাজকিয়ার সাথে রিয়াজের বিয়ে ঠিক করেন। কিন্তু এরই মাঝে নেমে এলো এক ধমকা হাওয়া। যা উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে সকল খুশির সাম্রাজ্য।  


মন্টু কবিরাজের দোকানের সামনে আসার পর সবাই দেখতে পায় প্রায় ২০০ মানুষ সিরিয়াল ধরে আছে। এতো কাস্টমার তো কখনো হয়না। আবার খেয়াল করলে দেখা যায়, কারো হাতে ব্যান্ডেজ কারো পায়ে আবার কারো মাথায়। সবার চোখে অশ্রুপাত।  মনে হচ্ছে একই সমস্যায় সবাই পড়েছে। হোসেন সাহেব একজনকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলো। উনি কাদতে কাদতে বলল, " সাহেব। আমগো বহুত বিপদ হইয়া গেছে। আমার পোলায় আমারে মাইরা দেহেন মাথা ফাডাই দিছে। আমার মাইয়ারে ছুরি দিয়া কোপাইয়া খুন কইরা ফেলছে। আমার বউরে লাথি মাইরা ফালাই দিছে। আমার পোলায় বহুত ভালা। ওর গায়ে ভূত ঢুইকা গেছে ।  এহন কবিরাজের কাছে আইলাম। কিন্তু কবিরাজ সকাল ৮ টায় সবাইরে কইলো হেয় নাকি একটা তাবিজ বানাইতাছে। সবাইরে সিরিয়াল ধরতে কইলো। বেইন্না তো আমরা ১৬ জন আছিলাম। এরপর একি সমস্যা লইয়া বাকিরাও আইলো "।  লোকটা কথাগুলো বলে নিজের কপালে নিজেই থাপ্পড় দিতে থাকে আর কান্না শুরু করে। উনার কথা শুনে সবাই কান্না থামাতে পারেনি। সবার চোখে পানি। কিন্তু কি করার, একই পথের পথিক সবাই। কবিরাজ মন্টুর অপেক্ষায় সিরিয়াল ধরে সবাই । 


বিকেল ঘনাঘন হয়ে গেলো। অথচ মন্টু কবিরাজের কোনো ডাক আসেনি। অবশেষে রিয়াজের বাবা কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। উনি সিরিয়াল থেকে বের হয়ে দোকানের দিকে হাটা শুরু করে । সবাই চিল্লাচিল্লি করছে,কারো কথায় কান দেয়নি উনি। সোজা গিয়ে মন্টু কবিরাজের দোকানের দরজায় সজোরে লাথি মারে।আর দরজা ভেঙ্গে পড়ে যায় নিছে। এরপর যা দেখলো,তা সবার জন্য একটা বড়সড় ধাক্কা হয়ে প্রকাশ পায়। কবিরাজ মন্টুর মাথা আলাদা, পা আলাদা,হাত আলাদা হয়ে আছে। যেনো কেও কুচি কুচি করে উনাকে কেটে ফেলে গেছে। উনার এই অবস্থা দেখে দোকানের সামনে আবার কান্নার আওয়াজ উঠে। শেষ যে উছিলা ছিলো, সেটাও হারালো সবাই। কিন্তু লক্ষ করার মতো একটা বিষয় হচ্ছে,রক্ত দিয়ে মাটিতে লেখা ছিলো ০৭ঃ০০।  অর্থাৎ ৭ টার সময়টাকে ইঙ্গিত করে কিছু একটা বলা হয়েছে। 


সবাই আবার আরো একটি আতঙ্কে দিগ্বিদিক হয়ে গেলো। এই ৭ টা কবেকার,আজ সন্ধ্যা ৭টা? নাকি কাল সকালের।  আর কি হবে ৭টায়। কোনো বড়সড় ঝড় আসবে? শেষমেশ আর কোনো উপায় না পেয়ে সবাই মাঠে বসে পড়ে। জীবনের মায়া ছেড়ে দিয়েছে কয়েকজন।  একজন বসা থেকে হুট করে উঠেই বলল," আমার আর কি বাকি আছে। পুরো পরিবার হারালাম। ৭টায় হয়তো সেই অশরীরীর হাতে আমাকেও মরতে হবে। তারচেয়ে বরং এখনি মরে যাই। অন্তত কষ্ট পেয়ে মরতে হবেনা,"।  বলেই উনি রস্তা থেকে একটা লোহা নিয়ে নিজের গলায় নিজেই ঢুকিয়ে দেয়। চিৎচিৎ করে রক্ত উড়ে পড়ে কয়েকজনের মুখে। সবাই চিল্লাচিল্লি করে উনাকে থামাতে চেয়েছে,কিন্তু তার আগেই মারা যান উনি। তার এই কান্ড দেখে আরো দুজন দৌড়ে গিয়ে দেওয়ালের সাথে নিজের মাথা নিজে পিটানো শুরু করে। দুয়েকটা মারার পরই মাথার খুলি ফেটে মগজ বের হয়ে আসে। মারা যান তারাও। এইবার সবাই আরো আতঙ্কিত হয়ে গেলো। হুট করে আবার কে উঠে নিজেকে নিজেই মেরে ফেলবে। সবার ভাবনার মাঝে এইবার রিয়াজের বাবাও দাড়িয়ে যায়। এ বুঝি আরেকজন মরতে যাচ্ছে। 


কিন্তু রিয়াজের বাবা তা না করে সবার উদ্দেশ্যে বলল," দেখুন সবাই। এখানে আমরা কেওই নিরাপদ নয় । সবাই বিপদগ্রস্ত হয়ে আছে। কিন্তু টপিক একটাই। আমাদের ছেলেদেরকে কোনো এক ডাইনী বশ করে নিয়েছে। খেয়াল করলে দেখবেন,কোনো মেয়ের গায়ে সেই ডাইনী প্রবেশ করেনি। কোনো বৃদ্ধ ব্যাক্তির দেহেও না। শুধু যুবক ছেলেদের বশ করেছে। এর কারণ কি? কেও বলতে পারে?"।  রিয়াজের বাবার প্রশ্নের জবাব কারো কাছে নেই। কারণ এইটা একটা রহস্য। যা পূর্বে ব্যাখ্যা করার শক্তি নেই কারো।।ঘটনাস্থলে যা হচ্ছে বা হবে। নিজের চোখে দেখার পর বিশ্লেষণ করার শব্দ পাবে। এর আগে সবাই শুধু দর্শক।  সবাই মাথা নিচু করে ফেলে। রিয়াজের বাবা আবার বলল," জানি উত্তর কারো কাছে নেই। কারণ এমন হবে আমরা কখনো ভাবিনি। হুট করে হয়ে গেছে। এখনো হয়ে আসছে। আর সামনেও হবে। কিন্তু আমরা মানুষ। আমরা হার মানতে পারিনা। জন্মের আগে আমরা যুদ্ধ করে এসেছি। আমরা প্রতিটি মানুষ একেকটা যুদ্ধা। হার কেনো মানবো আমরা? কে পুরুষ, কে মহিলা সেটা ভাবার সময় নেই। আমরা যুদ্ধা,আমরা লড়াই করে যাবো। নিজের জন্য,নিজেদের ছেলের জন্য"।  রিয়াজের বাবার কথায় সবাই হাততালি দেয়। সবাই একত্রিত হয়ে এক কন্ঠে আওয়াজ তুলল," লড়বো, লড়বো,লড়বো"।  একটা শ্লোগান।  কিন্তু শ্লোগানটা শুধুই স্লোগান নয়, সবার মনে এক একটা বিন্দু পরিমাণের শক্তি। রিয়াজের বাবা আবার বললেন," থামুন সবাই। সবাই বুঝতে পেরেছেন এইটাই বেশি। এখানে অনেক পুলিশও আছে। তারাও বিপদগ্রস্ত।অর্থাৎ এখন আমাদের হাতে একটাই পথ খোলা আছে। এই এলাকা থেকে কেও পালাতে পারছেনা। এলাকার সীমানায় একটা মায়াজাল পড়েছে। এ এলাকায় নেটওয়ার্ক ও বন্ধ হয়ে গেছে। তাই অন্য এলাকার বা শহরের মানুষ আমাদের অবস্থার ব্যাপারে জানেনা। আমরা সবাই যার যার বাড়িতে যাই। সন্ধার অপেক্ষা করি । যদি আমাদের মাঠে নামতে হয়,তবে আমরা নামবো। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝেশুনে। মনে রাখবেন,যারা মরেছে মরে গেছে। যারা বেচে আছে,অন্তত তাদের বাচাতে হবে। "। 


আকাশটা আজ ভয়ংকর রুপ ধারণ করেছে। বাতাসটা কেমন যেনো হিংস্র হয়ে যাচ্ছে। দেহে স্পর্শ হওয়া মাত্রই যেনো কারো আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সবাই সবার ঘরে অবস্থান করলেও,প্রতিটি মানুষ জানালার পাশে দাড়ানো।  সবার চোখ বাহিরে। সাড়ে ৬ টা বাজে। আর ৩০ মিনিট পর কি হবে,কি হতে যাচ্ছে,সেই দৃশ্য দেখার অপেক্ষা। আরেকটা কথা। যে ছেলেগুলোকে পিশাচটা বশ করেছে,তারা কেওই বাসায় নেই। প্রতিটি ছেলেই গায়েব। তারা কোথায় গেছে সবার অজানা। ঘড়ির কাটা টিকটিক করে এগিয়ে যাচ্ছে। সময় যতটা ঘনিয়ে আসছে, সবার ভিতরে ভয়ের চাপটা বেড়েই যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই ৭টা বাজবে। কি হবে,কি হবে ভেবে সবাই হতাশ। 


৭ টা বেজে গেছে। সবাই বাহিরে তাকিয়ে আছে। কোনো সাড়া শব্দ নেই। বুক ধুকধুক করছে সবার। কিছুই হয়নি,সবাই নির্বাক হয়ে গেলো। জানালা থেকে চোখ সরাতে যাবে, তখনি শুরু হয় ঝড়। 

প্রচুর বাতাস বইতে লাগলো বাহিরে। শুধু প্রচুর না,মাত্রাধিক বাতাস বইতে শুরু করে। বাহিরে যাদের গাড়ি পার্কিং করা ছিলো,গাড়িগুলো বাতাসে উড়ে অন্য বাড়ির সামনে গিয়ে পড়ছে। রাস্তার পাশে কয়েকজনের দোকান পার্ট ভেঙ্গে বাতাসে উড়ে যাচ্ছে । ঘুর্ণিঝড়ের মতো এক পলকে সব উতালপাতাল করে থেমে যায় বাতাস । 

এরপর আচমকা একটা চিৎকার শুনতে পায় সবাই। খুবি ভয়ানক চিৎকার। সবাই তাকায় সেদিকে। আর দেখে,প্রতিটি যুবক ছেলে মাতালের মতো কাদতে কাদতে হেটে আসছে। ওদের গলার স্বর খুবি ভয়ানক হয়ে গেছে। কোনো জন্তুর শব্দের মতো। আর সব থেকে বেশি অবাক করার বিষয় হচ্ছে,সাবার সামনে এবং মাঝে রিয়াজ হাটছে। যেনো সবার লিডার সে। কিন্তু এরা হেটে কোথায় যাচ্ছে। সবাই জানালা দিয়ে শুধু তাকিয়ে কান্ড দেখে যাচ্ছে। তাজকিয়া কান্না করতে করতে বেহুশ হবার অবস্থা ।  এদিকে আচমকা প্রতিটি যুবক মানুষের ঘরের দরজা ভাঙ্গা শুরু করে । এরপর বাসার ভিতর থেকে মহিলাদের বের করে কামড়াচ্ছে। রিয়াজ ও একটা মহিলার ঘাড় ধরে কামড় মেরে দিয়েছে। মহিলার গায়ের রক্তে রিয়াজের মুখ রক্তাক্ত হয়ে যায়। 


জানালা দিয়ে সবাই এসব দেখছে আর কান্না করে যাচ্ছে। কারণ কিছুক্ষণ পর সবার উপর হামলা আসবে। ওরা একটা একটা বাসা টার্গেট করছে,আর খুন করছে। কেও কান্না করছে, কেও বমি করে দিচ্ছে আর কেও এসব সহ্য না করতে পেরে অজ্ঞান হয়ে গেছে। রিয়াজের বাবা জানালা দিয়ে চিৎকার মেরে বলল," সবাই বের হও। যুদ্ধের সময় এসে গেছে"। 


কিন্তু একটা লোকও বের হয়নি। সবাই ভয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রিয়াজের বাবা বুঝতে পারে,ভয়ে কেওই এগিয়ে আসবেনা। কিন্তু থেকেও বা লাভ কি,যেহেতু মরতেই হবে। রিয়াজের বাবা একটা ধারালো তলোয়ার নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সবাই আটকাতে চাচ্ছে,কিন্তু কে শুনে কার কথা। উনি সবাইকে ধাক্কা মেরে বেরিয়ে আসে। বাহির থেকে দরজা লক করে দেয়। তখনি ঘটে আরেকটা ঘটনা। আচমকা সবার মাঝখান থেকে বেরিয়ে আসে সেই পিশাচ। সাদা চোখ,কালো দাত,দেহের গঠন প্রায় ১০ ফুট। ভয়ংকর কুৎসিত চেহারা নিয়ে পিশাচটা হাসতে শুরু করে। যুবকরাও পিশাচের হাসির শব্দে থেমে যায়। পিশাচটা এমন ভাবে হাসছে, তার হাসির শব্দে আরো অনেকে অজ্ঞান হয়ে যায়। কারণ এইটা সাধারণ হাসির শব্দ নয়। অনেক,অনেক, অনেক ভয়ংকর হাসি। আর তখনি নতুন আরেকটা ঘটনার সম্মুখীন হয় সবাই। 


রিয়াজ আচমকা শার্টের ভিতর থেকে একটা ছুরি বের করে। এরপর দৌড়ে সেই পিশাচের দিকে গিয়ে লাফ মেরে তার গলায় ঢুকিয়ে দেয়। সিনটা এমনভাবে হয়ে গেলো,প্রতিটি মানুষ থ হয়ে যায়। রিয়াজের বাবাও তলোয়ার হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এইটা কি হয়ে গেলো? রিয়াজ এইভাবে পল্টি কেনো নিলো? কিন্তু এদিকে পিশাচটা ছুরির আঘাত সহ্য করতে পারেনি। সবাই দূর থেকে খেয়াল করে যাচ্ছে, রিয়াজের হাতের ছুরিটাও সাধারণ কোনো ছুরি নয়। ছুরিটা প্রচুর আলো ছড়াচ্ছে। আর ছুরির মাঝে অজানা কিছু অক্ষরে কি যেনো লেখা আছে। এ ছুরি রিয়াজ পেয়েছে কোথায়,আর সে পিশাচকে কেনো মারলো? পিশাচটাও হটাৎ চিৎকার দিতে লাগলো। নিজের নখ দিয়ে রিয়াজের পেটে জোরে আছড় মারে।  নখের আঘাতে শার্ট ছিড়ে যায়। ভিতরে চামড়াও অনেক কেটে গেছে। ২-৩ ডিগবাজি খেয়ে রিয়াজ অনেক দূরে ছিটকে পড়ে। ছুরিটা রিয়াজের হাতেই। এদিকে পিশাচটা চেচাতে চেচাতে হুট করে ফেটে যায়। নিমিষেই ধোয়ার রুপে উড়ে যায় পিশাচ। মরে যায় সে। 


তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। ছুরিটা ভেঙ্গে গেছে। রিয়াজ যখন ডিগবাজি খাচ্ছিলো,তখন ছুরির উপর আঘাত পড়ে। এদিকে অন্য যে যুবকরা,তারা সবাই ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। সবাই দাত বের করে রিয়াজের দিকে তেড়ে আসতে লাগলো। রিয়াজ বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। ছেড়া শার্টটা রাস্তায় ফেলে দিয়ে সেও এগিয়ে যায়। তখনি রিয়াজের পিছন থেকে অন্য আরেকজন দৌড়ে এসে রিয়াজকে ঝাপটে ধরে। আর সে রিয়াজকে নিয়েই আকাশে উড়ে চলে যায়। বশে থাকা যুবকরা আকাশের দিকে তাকিয়ে ভয়ংকর গর্জন ছাড়ছে। রিয়াজের বাবাও উল্টো দৌড়ে বাসায় ঢুকে যায়। বাসায় ঢুকার পর রিয়াজের মা দৌড়ে আসে।  উনি এসেই রিয়াজের আব্বুকে বলতে লাগলো,

- রিয়াজকে নিয়ে আকাশে উড়ে যাওয়া ব্যাক্তি অন্য কেও নয়। সে আমাদের তাজকিয়া।

- মানে?

- হ্যাঁ,  তাজকিয়া হটাৎ জানালা ভেঙে বাতাসের গতিতে ছুটে যার, আর এক পলকেই রিয়াজকে নিয়ে উড়ে চলে গেলো। আমি বুঝতেছিনা কি হচ্ছে এসব। 


এক মুহুর্তেই সব এদিক সেদিক হয়ে গেলো। রিয়াজ তো বশে ছিলো,তবে হটাৎ সে পিশাচকে কেনো আক্রমণ করলো। এমন শক্তি পেয়েছে কোথায় সে। আর রিয়াজও বা সেই ছুরি কোথায় পেলো,যেটা দিয়ে আক্রমণ করেছে সে? পিশাচটা তো মরে গেলো,তবে বাকি যুবকরা কেনো এখনো হিংস্র হয়ে আছে? তারা তো পিশাচের মৃত্যুর পর ঠিক হবার কথা। তবে কি এখানে আরো কেও আছে? মূল শয়তান পিশাচ না? অর্থাৎ অন্য কেও সবাইকে পরিচালনা করতেছে? হটাৎ তাজকিয়ারও বা এই রুপ দেখা গেলো কেনো। তাজকিয়ার ভিতর এমন শক্তি এসেছে কোথা থেকে? নাকি পূর্বের কোনো ঘটনা সংমিশ্রণ আছে এসবে। এখন কি বা হতে যাচ্ছে? কি হবে? ঘটনা কি শেষ, নাকি মাত্র শুরু। রহস্য, রহস্যের মায়াজালে সবি আটকে গেছে। সব রহস্য উদঘাটন হবে,আগামী পর্বে। 


চলবে........?


https//wwwprithasbowlastpart.com

গল্প- পিশাচ সুন্দরী ( পর্ব-০৪)

 গল্প- পিশাচ সুন্দরী ( পর্ব-০৪)

লেখক- রিয়াজ রাজ



-------------------------------- 

আমি মেয়েটার পিছন থেকে দেখছি। উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে সে। চুল গুলো পুরো ফ্লোর অব্দি নেমেছে। পিছন থেকে চুল ছাড়া আমি মেয়েটার কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা। মেয়েটা ধীরে ধীরে পিছু ফিরতে লাগলো। আমি শুধু ভাবছি ওর মুখটা কতটা ভয়ংকর হতে পারে। মেয়েটা ঘুরে অবশেষে তার মুখ দেখালো আমাকে।


আমার জীবনে আমি এরকম একটা সুন্দর মেয়েকে দেখিনি। আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা,এইটা কোনো পিশাচ। ওর মায়াভরা টানটান চোখ, চোখের চারপাশে কালো ঘাড় কাজল মনমুগ্ধ করার মতো। ওর চুল,সত্যিই অবিশ্বাস্য।  এতো সুন্দর ঘনকালো চুল কখনো দেখিনি। সামান্য বাতাসেও চুলগুলো এমন ভাবে হেলছে,যেনো বাতাস ছাড়াই চুলগুলো উড়াউড়ি করে বেড়াচ্ছে। ওর ঠোঁটের প্রসংশা করার মতো নয়। কারণ এই ঠোঁটের ব্যাখ্যা করার মলতো শব্দ তৈরি করতে আমাকে আরো ৭ বার জন্ম নিতে হবে। আর ওর ফিগার।  সেটা আর আমি বলছি না। আপনিই বুঝে নিন। কারণ এমন ফিগার নিয়ে কেও সোস্যাল মিডিয়ার সামনে এলে আমি নিশ্চিত এই মেয়েকেই বিশ্ব সুন্দরী বলে গন্য করা হবে। আমি হারিয়ে গেছি ওর রুপের দরিয়ায়। আমি ঢুবে গেছি তার আখিধারে।আমি ভেসে গেছি তার নাভিতলে। 


হটাৎ আমার কল্পনাকে নাড়া দিয়ে পিশাচটা বলল," আমাকে কেমন লাগছে?"। আমি ওর প্রশ্নের উত্তর ভেবে দেইনি। অটোমেটিক আমার মুখ থেকে বের হতে লাগলো,"  তুমি সেই নারী যার রুপে হেসে প্রাণ দিবে হাজার পুরুষ। তুমি সেই নারী যার একটি শব্দে যুদ্ধে মেতে উঠবে কোটি যুবক। তোমার তুলনা হয়না,তোমার তুলনা তুমি নিজেই। আমি তোমাকে স্পর্শ না করেও,দেখে দেখে কাটিয়ে দিতে পারবো আজীবন। সত্যিই, তোমার তুলনা হয়না"।  আমার কথায় সে মুচকি হাসলো। হেসে তার চুলগুলো একটা ঝাড়া দিলো,সাথে সাথে পুরো রুমে একটা মায়াবী সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ে। এর চুলের মাঝে এমন কি আছে,যা একজন সুস্থ ব্যাক্তিকেও মাতাল করে দিতে পারে। তার প্রেমে মাতাল। 


সম্মানিত পাঠক শ্রোতা।  এতক্ষণ রিয়াজের মুখে শুনলেন পুরো ঘটনা।  চলুন এইবার আমি লেখক মশাই আপনাদের বাকি ঘটনা বলি। কারণ ক্যারেক্টর সব গুলোই এখন ব্যস্ত। শুধুমাত্র আমি আছি ঘটনা বলার জন্য।চলুন শুরু করি।

🔴গল্পের মাঝে এড দেওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। 

দেখতে দেখতে শীতকাল চলে এলো এজন্য আমরা নিয়ে এসেছি ন্যায্য দামে উন্নতমানের শীতকালের জ্যাকেট(কুটি) জ্যাকেটের বিবরণ 🥰👇

Ladies Primium Winter Overcoat


চায়না উইন্টার ফেব্রিক্সের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ওভারকোট।

দুই পাশে পকেট দেওয়া আছে।

ছবির সাথে মিল থাকবে এবং কোয়ালিটি সম্পূর্ণ হিট প্রোডাক্ট।


লং সাইজঃ ৩৬/৩৮

বডি সাইজঃ ৩৮,৪০,৪২,৪৪

লেডিস জ্যাকেট গুলো দেখতে কেমন পিক দেওয়া আছে 👇





সাইজ বর্ণনাঃ

S=34,36 (আপাতত নাই, সামনে আসবে)

L=38,40

XL=42,44

মূল্য ১২০০৳

অর্ডার করতে ইনবক্স করুন📨

আমার গল্পে ফিরে আসা যাক🤩

রিয়াজ পিশাচকে দেখে এক প্রকার বশ হয়ে যায়। পিশাচ তার আসল রুপ দেখিয়ে এক মুহূর্তে ঘায়েল করে দেয় রিয়াজের হাজারো বিভ্রান্তি। পিশাচটা ধীরে ধীরে রিয়াজের দিকে এগিয়ে আসে। রিয়াজ মুগ্ধ হয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পিশাচের দিকে। পিশাচটা রিয়াজের বিছানায় শুধু একটা পা তুলে দেয়। রিয়াজ সাথে সাথে মাথা নিচু করে পিশাচটার পায়ে চুম্বন দিতে শুরু করে। কুকুরের মতো আচরণ করে যাচ্ছে সে। পিশাচটা যখন রিয়াজের মাথায় হাত রাখে, রিয়াজ তাড়াহুড়ো করে গেঞ্জি আর প্যান্ট খুলে বিছানায় শুয়ে পড়ে।পিশাচও চট করে তার গায়ের শাড়িটা ফেলে দেয়। রিয়াজ আরো বেশি মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে পিশাচ তার সব কাপড় খুলে ফেলে দেয়। কিছুক্ষণ পর পিশাচটা ধীরে ধীরে রিয়াজের কোমরের উপর বসে। তারপর রিয়াজের গলায় হাত দিয়ে পিশাচটা রিয়াজকে চুমু দিতে লাগলো। রিয়াজ নিজের দুই হাত তুলে সোজা পিশাচের স্থনে স্পর্শ করে বসে। এইভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর পিশাচটা রিয়াজের গোপন অঙ্গ তার মাঝে বিলিয়ে দেয়। চাদটা ঢুবে গেছে,রুমটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। কিন্তু তার মাঝে মিলন চলছে একটা পিশাচ ও মানুষের। 


সকাল ৮টা।

ভোর করে উঠলেও, তাজকিয়া বাসায় রিয়াজের জন্য পিঠা বানাতে বসে। যেগুলো বানাতে বানাতে ৮ টা বেজে গেলো। গতকাল রিয়াজকে প্রচুর টর্চার করেছে। আজ আর তা করবেনা। কারণ রিয়াজের মা সহই সেদিন প্ল্যান করেছে রিয়াজকে টর্চার করবে। শীতকাল, গরম গরম পিঠা তৈরি করে তাজকিয়া রিয়াজদের বাসায় আসে। ততক্ষণে ৯টা বেজে গেলো। রিয়াজের আম্মু দরজা খুলেই দেখে তাজকিয়া। উনি পিঠার বক্সটা হাতে নেয়। এরপর তাজকিয়া বলল,"

- আন্টি,রিয়াজ কোথায়? ঘুমাচ্ছে এখনো? ।

- কেনো, আজকেও টর্চার করবে নাকি আমার ছেলেকে। তবে যাই বলো,কাল অনেক মজা পেয়েছি হাহাহা"। 

- না,আজকে আর জ্বালাবো না। কাল প্রচুর বিরক্ত হয়েছে। 

- তাও ঠিক। আচ্ছা যাও, উপরের ঘরে আছে। ঘুমাচ্ছে এখনো। পিটিয়ে তুলবা ঠিক আছে?

- ওকে আন্টি।


তাজকিয়া নাচতে নাচতে রিয়াজের রুমের দিকে যায়। দরজার সামনে গিয়ে ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে গেলো। মনে মনে তাজকিয়া অবাক হয়। রিয়াজ তো দরজা লক করা ছাড়া ঘুমায়না কখনো।  যাইহোক, ভুলে গেছে হয়তো ভেবে তাজকিয়া রুমে ঢুকে। প্রচন্ড রকমের একটা বিশ্রী গন্ধ পায় তাজকিয়া। প্রায় বমি করার মতো। তাজকিয়া রিয়াজের দিকে তাকিয়ে দেখে,রিয়াজ উলঙ্গ হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। তাও আবার হাত পা ছড়িয়ে দিয়ে। তাজকিয়া হুট করে আবার পিছনে এসে দরজা বন্ধ করে দেয়। বেকুব হয়ে যায় তাজকিয়া। রিয়াজ এমনভাবে শুয়ে আছে কেন। তাজকিয়া দৌড়ে রিয়াজের কাছে যায়। রিয়াজের পাশে বসে। এরপর গাল ধরে রিয়াজকে ডাকাডাকি শুরু করে।  রিয়াজ গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে আছে।  ডাকাডাকির কারণে হুট করে রিয়াজ লাফিয়ে উঠে। দেখে তাজকিয়া বসে আছে পাশে।  রিয়াজ আচমকা রেগে গিয়ে তাজকিয়াকে জোরে একটা চড় মারে। তৎক্ষনাৎ তাজকিয়া বিছানা থেকে ফ্লোরে পড়ে যায়। ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হচ্ছে তাজকিয়ার। রিয়াজ উলঙ্গ অবস্থায় বিছানা থেকে নেমে প্যান্ট পড়ে নেয়। তাজকিয়ার দিকে তাকাচ্ছেও না। তাজকিয়া ফ্লোর থেকে উঠে কান্না করতে করতে আবার রিয়াজের কাছে গিয়ে বলল," কি হয়েছে তোমার সোনা। এমন করতেছো কেন? "। রিয়াজ এইবার তাজকিয়াকে এমন জোরে এক ধমক দেয়। তাজকিয়া নিমিষেই ভয়ে জমে বরফ হয়ে যায়।  এদিকে রিয়াজের বাবা মা দৌড়ে আসে। বাহির থেকে দরজা পেটাচ্ছে ওরা। তাজকিয়া দৌড়ে দরজা খুলতে যাবে,তখনি রিয়াজ তাজকিয়ার চুলের মুঠি ধরে জোরে ফ্লোরে আছাড় মেরে দেয়। 


চলবে.......?



পিশাচ সুন্দরী ( পর্ব-০৩)

গল্প- পিশাচ সুন্দরী ( পর্ব-০৩)



লেখক - রিয়াজ রাজ

-----------------------------------

আমি লাফিয়ে উঠলাম। দেখি তাজকিয়ার চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। মুখে রক্তের দাগ। দাত সব কালো হয়ে গেছে। চোখ দুটো সাদা হয়ে গেছে। হাতের নখ বড় বড় হয়ে গেছে। গলার চামড়াগুলো বুড়োদের মতো হয়ে গেছে। আর আমার গলা দিয়ে যে সাউন্ড বের হয়,সেটাও যেনো সাইলেন্ট হয়ে গেছে।


আমার মাথা ঝিম ধরে যায়। পিছন সাইট থেকে ঝিম ঝিম করতে করতে চোখ সহ ঘোলা হতে থাকে। তাজকিয়ার এই রুপ আমি নিতে পারছিনা। ভয় তো পাচ্ছিই,সাথে অলৌকিক ঘটনা।  আমার পুরো শরীর অবশ হতে থাকে। তাজকিয়া আমার দিকে ভয়ংকর দৃষ্টিতে তাকিয়েই আছে। লোড নিতে না পারে আমি সেখানেই পড়ে যাই। 


- ওও মা!!! 

- হা বাবা আমি আছি তো। 

আমার বাম পাশে আম্মু,আর ডান পাশে আব্বু। বিছানায় শুয়ে আছি আমি। পায়ের দিকে তাজকিয়া বসে আছে। আমি তড়িঘড়ি করে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বললাম,

- মা,তাজকিয়া মানুষ নয়,ভুত। 


ঠাসসসসসসসস।  হ্যাঁ, ভুল কিছু আন্দাজ করেন নি। চড়টা আমার গালেই পড়েছে। আমি গাল ধরে হাবলা হয়ে আম্মুর দিকে তাকিয়ে আছি। আম্মু রেগেমেগে বলল, 

- পাগল হইলি নাকি। তোর আব্বুকে নিয়ে হাজার ঘটনা বল, কিন্তু আমার তাজকিয়া মাকে নিয়ে একটাও বাজে কথা বলবিনা। 

আম্মুর কথা শেষ না হতেই তাজকিয়া হুড়হুড় করে কেদে দিলো। কাদছে আর বলছে," দেখেছেন আন্টি,ও সব সময় এমন করে। আমাকে আর ভালো লাগেনা ওর। কিছুক্ষণ আগে আমার ঘাড় ধরেছে মারার জন্য। পরে দেখি নিজেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে। এখন উঠেই বলছে আমি ভুত"। তাজকিয়ার কথা শেষ,আব্বুর কথা শুরু," দেখলি তো রিয়াজ। তোর মা টেনেটুনে আমাকেই বাশটা দিলো। কেনো? আমার সম্মন্ধে কিছু বলার আছে নাকি। আমি কি খারাপ কিছু করি? সব তোর দোষ,তোর জন্য তোর মা সুযোগ পায় আমাকে খোচা দেওয়ার জন্য। ধ্যাত"।  বলেই আব্বু নাক বাকা করে বের হয়ে যায়। আব্বুর কাহিনি দেখে আম্মুও নাক বাকা করে রুম ত্যাগ করে। ওদের দুজনের কাহিনি দেখে তাজকিয়াও নাক বাকা করে বের হয়ে গেলো। আমি অসহায় গালে হাত দিয়ে শুধু দেখেই গেলাম। 


কি হচ্ছে মাথায় কেন,কান দিয়েও ঢুকতেছে না। কাল রাত থেকে হাবলা হয়ে আসছি। ভুতের সাথে করলাম ফষ্টিনষ্টি।  ভুতের চেহারা দেখলাম তাজকিয়ার মুখে,শেয়ার করতে গেলে চড় খাচ্ছি। আমি কি আসলেই হাবলা? ভুত কি আমাকে হাবলা পেয়েছে নাকি। আর তাজকিয়া কি আসলেই ভুত? নাকি ওর মুখে আমি ভুত দেখেছি? নাকি ভুত ওর গায়ে ভর করেছিলো? নাকি আমার মাথায় সমস্যা? না না না,নিতে পারছি না। আমাকে এখন রহস্য বের করতে হবে। কিন্তু কিভাবে?  ডক্টরের কাছে যাবো? নাকি কবিরাজের কাছে? এ খোদা, আমার এখন কি করনীয়। 


যা হবার হবে। আমি কবিরাজের কাছেই যাবো। ভুত থাকলেও চলে যাবে,আর আমার মাথায় গ্যাস্টিক, না সরি সমস্যা থাকলেও নেমে যাবে। কারণ ভুত আছে কিনা,সেটা শিওর হলেই আমি বাচি। 


বিছানা ছেড়ে উঠে ওয়াশরুমে গেলাম। গোসল করতেছি। আয়নার দিকে তাকালাম। না মানে,বিভিন্ন হরর মুভিতে দেখেছি আয়নাতে ভুত থাকে। আর এইটাও জানি,আপনিও তেমন কিছুই ভাবতেছেন,যে এখন কিছু হবে। হা হা হা,আপনাকে হাবলা বানিয়ে দিলাম। আমার সাথে কিছুই হয়নি এখন। 

🔴গল্পের মাঝে এড দেওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। 

দেখতে দেখতে শীতকাল চলে এলো এজন্য আমরা নিয়ে এসেছি ন্যায্য দামে উন্নতমানের শীতকালের জ্যাকেট(কুটি) জ্যাকেটের বিবরণ 🥰👇

Ladies Primium Winter Overcoat


চায়না উইন্টার ফেব্রিক্সের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ওভারকোট।

দুই পাশে পকেট দেওয়া আছে।

ছবির সাথে মিল থাকবে এবং কোয়ালিটি সম্পূর্ণ হিট প্রোডাক্ট।


লং সাইজঃ ৩৬/৩৮

বডি সাইজঃ ৩৮,৪০,৪২,৪৪

লেডিস জ্যাকেট গুলো দেখতে কেমন পিক দেওয়া আছে 👇




সাইজ বর্ণনাঃ

S=34,36 (আপাতত নাই, সামনে আসবে)

L=38,40

XL=42,44

মূল্য ১২০০৳

অর্ডার করতে ইনবক্স করুন📨

আমার গল্পে ফিরে আসা যাক🤩

ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে নিছে আসি। বাহ,বাহ, কি ভালো পরিবার আমার। সবাই টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে,অথচ আমাকে একবারও ডাকেনি। আমার ভাবনার মাঝেই আম্মু আমাকে দেখে ফেলেছে। আম্মু বলল," কিরে তোর ক্ষুদা লেগেছে? লাগলে খেয়ে নিতে পারিস"। আমার মেজাজ খিটখিটে গরম হয়ে যাচ্ছে। তাজকিয়া আসার পর থেকেই এরা যেনো রত্ন পেলো। আমি যে তাদের ছেলে,এইটা কি ভুলে যাচ্ছে? যাইহোক, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। কথাটা মাথায় এনে খাবার টেবিলে বসি। কিছু ভাত নিলাম প্লেটে,মাংসের বাটি নিতে যাবো।তখনি আম্মু বাটিটা ধরে তাজকিয়ার প্লেটে ঢেলে দিলো। এক টুকরো মাংসই ছিলো। মাংস তো দিয়েছেই,আবার বলেও উঠলো, " রিয়াজ না খেলে কিছু হবেনা। কিন্তু তুমি বেশি বেশি খাও। সামনে তোমাদের বিয়ে দিবো। পুরো মহল্লার লোক যেনো বলে। আমার বাসার বউটা সবার থেকে সেরা"।  আমি কান্ড দেখছি আর নিত্যসময়ের মতো হাবলা হচ্ছি। সবাই সেরা বউটাই দেখলো, এদিকে আমি যে সেরা বয়ফ্রেন্ড, তা কারো নজরেই লাগেনা। দুনিয়া মাদারি হয়ে গেছে। 


যাইহোক, আলু ভর্তা আর ডাল দিয়ে খেয়ে নিলাম ভাত। তখনি মা বলল," 

-ভাত তো খেয়েছিস পেট ভরে। এইবার থালাবাসন গুলা পরিস্কার করে ফেল।

- তুমি আমারে পাইছো কি? ( বলেই চেয়ারটা লাথি মারলাম। সবাই আমার দিকে হা করে তাকাই আছে। আমি গরম গলায় আবার বললাম)

- মাংস সব ওরেই দিলা।  কোনো রকম ডাল ভাত খেলাম,তাও সহ্য হচ্ছেনা। বিয়ের আগেই মাথায় তুলে রাখতাছো তারে। ওয় তো তোমাদের জন্যই সাহস পাচ্ছে। সকাল থেকে তোমাদের কান্ড দেখে যাচ্ছি আমি। এদিকে আমার কি অবস্থা কেও খেয়াল করেই দেখছেনা। আমি কি মানুষ না? 


কড়া বাসায় কথা গুলা বলার পর আম্মু বলল," আমরা কেও ভয় পাইনি"। এ বলেই সবাই আবার খাওয়া শুরু করলো। যাহহ শেষ অব্দি বাসায় ইজ্জৎটাও হারালাম। ফোনটা পকেটে নিয়ে বের হয়ে গেলাম আমি। কল দিলাম রনিকে।


- হ্যালো রিয়াজ বল।

- তুই কই বন্ধু? আমার জীবন তো শেষ হয়ে গেলো রে। 

- কি হয়েছে আবার।

- বন্ধু ভুত পিছু নিয়েছে আমার।

- হা হা হা হা। ও মারে,কেও আমার হাসি থামা। শালা ভুত বলে কিছু আছে নাকি।

- শেষমেশ তুইও?

- আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। বল ভুত তোর কি সর্বনাশ করেছে।

- ভুত করেনি,আমি ভুতের সাথে রাতে সে* করেছি। 

- বুঝলাম না,কল দিয়েই এতো মজার মজার জোক্স শুনাচ্ছিস কেন। সেই হচ্ছে বন্ধু।

- তুই বেডা ফোন রাখ।


কলটা কেটে দিলাম। কেও বিশ্বাস কেনো করছেনা। না,আমি কবিরাজের কাছেই যাবো। 

আমার বাসা থেকে মাত্র দেড় কিলো দূরে একটা কবিরাজের দোকান আছে। সবসময় আসা- যাওয়ায় চোখে পড়ে। উনার কাছে গিয়ে দেখি,যদি পাই কোনো সহযোগিতা।  একটা রিক্সা নিয়ে রওনা দিলাম কবিরাজের কাছে। প্রায় ২০ মিনিট পর উনার দোকানের সামনে পৌছাই । রিক্সা ভাড়া দিয়ে দোকানে প্রবেশ করি। তখনি কবিরাজ মন্টু মিয়া বলল,

- দাড়া।

আমি সেখানেই দাঁড়িয়ে গেলাম। উনি আমার দিকে নিজেই হেটে হেটে আসলো। হাতে একটা অদ্ভুত লাঠি,আর মাথায় সাদা লম্বা চুল। গায়ে পাঞ্জাবি, এবং মুখ ভর্তি দাড়ি। উনাকে দেখেই ভয় পাচ্ছি আমি। উনি আমার কাছে এসে বলল,

- মেয়ে ভুত। রাতে ওর সাথে সহবাস করেছিস। দিনেও অন্যের চেহারায় তাকে দেখতে পাস। তাইনা?

- হ্যাঁ হুজুর হ্যাঁ।  হুজুর,আমাকে বাচান। কেও বিশ্বাস করেনা আমার কথা। একমাত্র আপনিই বলার আগেই বুঝে গেলেন। ( এ বলেই আমি হুজুরের পায়ের কাছে চলে গেলাম)

- পা ছাড়। শুন,আমি যেভাবে বলবো,ঐ ভাবে করবি।

- হ্যাঁ বলুন? 

- বাসায় যাবি,অপেক্ষা করবি পিশাচটার জন্য। তাকে মনে মনে ডাকবি। সে আর তাজকিয়ার চেহারায় নয়,তার নিজের আসল চেহারা নিয়ে তোর সামনে আসবে। তুইও তার সাথে হেসে হেসে কথা বলবি। ওর কাছে যাবি। কোনোভাবে ওর মাথা থেকে একটা চুল ছিড়ে তোর পকেটে রাখবি। কাজ হয়ে যাবে। চুলটা আমার কাছে আগামীকাল নিয়ে আসবি। আমি পিশাচকে বন্দি করে ফেলবো। 

- হুজুর,যদি বলে আবার উল্টাপাল্টা কিছু করার জন্য?

- তো করবি। তাকে কোনোভাবে রাগানো যাবেনা।

- হ্যাঁ তা ঠিক। অবশ্যই আমার ভালোই লেগেছে গতকাল।

- এসব বললে হবেনা। পিশাচটা কিন্তু অনেক শক্তিশালী।  ওর মায়ায় পড়িস না। নিজেকে কন্ট্রোল রাখবি।

- আচ্ছা হুজুর। 

- এ নে,এই তাবিজটা পকেটে রাখ। যদি দেখিস পিশাচটা তোকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। তবে তাবিজটা ওর কপালে চেপে ধরবি।

- এতে কি হবে?

- সে যন্ত্রণা সহ্য করতে পারবেনা। তৎক্ষনাৎ পালিয়ে যাবে। অন্তত এই যন্ত্রণা তার ২৪ ঘন্টা থাকবে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সে তোর কাছেও আসতে পারবেনা।  ততক্ষণে আমি একটা সমাধান দিবো। তবে সে তোকে মারতে চাইলে তুই তাবিজ ব্যাবহার করবি। আর যদি দেখিস সে ভালো আচরণ করছে। তবে ওর চুল একটা নেওয়ার চেষ্টা করবি।

- আচ্ছা।

- তুই তাহলে যা এখন। আজ রাত ১২ টার পরেই তাকে স্বরণ করবি।


মন্টু হুজুরকে বিদায় দিয়ে বের হয়ে এলাম। যাক,অবশেষে একটা উপায় পাওয়া গেলো। বাসায় এসে দেখি তাজকিয়া নেই। অর্থাৎ চলে গেছে। আব্বু অফিসে, আর আম্মু টিভিতে সিরিয়াল দেখছে। আমার দিকে আম্মু তাকিয়েই,নাক বাকা করে আবার টিভিতে মন দিলো। আমিও পাছা বাকা করে রুমে চলে এলাম।


সারাদিন অপেক্ষা করার পর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। তাজকিয়ার কল আসে ফোনে। আমি রিসিভ করতেই তাজকিয়া বলল,

- কি করো।

- কি করবো? বাড়িতে তো আমার ইজ্জত ঢুবিয়ে গেলে।

- ঠিকি তো,তুমি উল্টাপাল্টা কাজ কেনো করো।

- কি করেছি আমি? তোর গায়ে ভূত ভর করেছিলো। তুই তো সেটা জানস না,আমি নিজের চোখে দেখেছিলাম।

- এ ব্যাপারেই একটা কথা ছিলো।

- কি কথা।

- তুমি যখন জ্ঞান হারিয়েছো, তখন তোমার বাম পাশের ফ্লোরে একটা পায়ের চাপ দেখি আমি। যেটা হেটে হেটে জানালা অব্দি গিয়ে উধাও হয়ে যায়। আমি শুধু পায়ের চাপ দেখতে পাচ্ছিলাম।অন্য কোনো কিছু দেখিনি।

- এইবার দেখলা তো? ওটা ভুত ছিলো। কিন্তু আমাকে আগে বলোনি কেন?

- আমার ভয় করতেছিলো। 

- যাক,আমার লক্ষীসোনাটা যে সত্যটা জেনেছে,এইটাই বেশি। আচ্ছা শুনো, কাল বাসায় আইসো। তোমাকে একটা ঘটনা বলবো। 

- কিসের ঘটনা। 

- বাড়িতে এলেই বলবো।

- আচ্ছা বাবা আসবো। খেয়েছো?


এরপর ওর সাথে প্রেমালাপ শুরু করি। বকবক করতে করতে রাত ১০ টা বেজে যায়। খাওয়াদাওয়া শেষ করে উঠতে উঠতে ১১ টা বাজে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালাম। সাড়ে এগারোটা বেজে গেছে প্রায়। ১২ টা বাজবে এখন। আমি মিশনে যাই। 


রুমে গিয়ে বিছানায় বসি। মনে মনে ভুতটাকে কল্পনা করতে লাগলাম। ধীরে ধীরে আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। রুমটা কেমন যেনো ঠান্ডা হয়ে আসছে। আমি চোখ খুলে তাকাই। দেখি জানালা দিয়ে একটা সাদা ধোয়া আমার রুমে প্রবেশ করলো। আমার হাটু কাপছে। ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছি। দেখলাম, সাদা আলোটা ফ্লোরের উপর এসে দাঁড়িয়ে যায়। হটাৎ সেখান থেকে একটা মেয়ে ভাসমান হয়। আমি মেয়েটার পিছন থেকে দেখছি। উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে সে। চুল গুলো পুরো ফ্লোর অব্দি নেমেছে। পিছন থেকে চুল ছাড়া আমি মেয়েটার কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা। মেয়েটা ধীরে ধীরে পিছু ফিরতে লাগলো। আমি শুধু ভাবছি ওর মুখটা কতটা ভয়ংকর হতে পারে। মেয়েটা ঘুরে অবশেষে তার মুখ দেখালো আমাকে।


চলবে........?


( গল্পের ব্যাপারে সকল অভিযোগ, অনূভুতি, রিভিউ, আলোচনা, সমালোচনা করুন আমার গ্রুপে।  আর কমেন্টে জানান কেমন লেগেছে)

৪র্থ পর্ব লিংক 👇

https//wwwlastpartstory.com

ভয়ংকর_ধর্ষণ ( পর্ব-৫ ও শেষ)

গল্প- ভয়ংকর_ধর্ষণ ( পর্ব-৫ ও শেষ)




লেখক- Riaz Raj

------------------

সব ঝাপসা দেখতে লাগলো সে। ধীরে ধীরে জ্ঞান হারিয়ে বসে রিয়াজ।

চোখ খুলে দেখে রিয়াজ মর্গে শুয়ে আছে। সামনে দাঁড়িয়ে আছে সামিয়া আর ফাতেমা। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সে। এইগুলা কি। কি হচ্ছে এসব?


চোখের পলকে আবার তারা অদৃশ্য হয়ে যায়। রিয়াজ সিট থেকে উঠে দেখে আশেপাশে অনেক লাশ। কে বা কারা,আর সে এখানে কিভাবে। তা বুঝে উঠতে পারেনা রিয়াজ। এইবার ভূত বলতে কিছু আছে,তা বিশ্বাস করেই নিয়েছে রিয়াজ। এতোদিন চোখের ভুল বা বনোয়ারি গল্প ভেবেছে। এখন থেকে তার মনের ভিতর পুরোপুরি ভাবে জমাট বেধেছে। আসলেই আত্মা নামক কিছু আছে। ভাবতে ভাবতে অবশেষে ওখানেই জ্ঞান হারায় সে।


অন্যদিকে ড:এস্টুম্যান রিয়াজকে বলল,

- হা হা হা,দেখো। ইন্সপেক্টর ভয় পেয়ে জ্ঞান হারিয়েছে। তারমানে সে ধরেই নিয়েছে আত্মা নামক কিছু আছে। হা হা হা

- থামুন তো! এতো হাসার কি আছে। উনাকে আমরা ব্যবহার করেছি। ব্যস এইটুকু। ডিওএমএম এর পরিচয় না জানাই থাক। আমরা লুকিয়ে কাজ করবো। ডিওএমএম এর নাম সেখানেই প্রকাশ হবে,যেখানে প্রকাশ করা দরকার। এই অহংকার আর বিকৃত মস্তিষ্কজাতের কাছে যদি ডিওএমএম এর পরিচয় লিক হয়। তবে এরা উল্টো ভেবে আমাদের উপরেই হামলা চালাবে হয়তো।

- ডিওএমএম কখনো হার মেনে নেয়না রিয়াজ।

- জানি। তবে জিত লাভ করার জন্য এই নিরীহ মানুষদের মেরে কি হবে। আপরাধীর শাস্তি সে পাবেই? কিন্তু জেনে অপরাধ করাতে তো পারিনা। কি বলেন ড:এস্টুম্যান

- হুম। এইবার তুমি যাও। এই ইন্সপেক্টরকে বলে দাও,ওর সাথে আমরা এমন কেনো করেছি আর কি করতে চেয়েছি। 

- হুম যাবো। এখন নয়। সে বাসায় যাক। এরপর তার বারান্দায় গিয়ে কথা বলবো। আকাশযান তো আছেই।

- তোমার খুশি মিষ্টার রিয়াজ সাহেব।


এই রিয়াজ আর ইন্সপেক্টর রিয়াজ এক মানুষ না। ওরা মানুষ দুজন,কিন্তু নাম এক। রিয়াজ হচ্ছে ডিওএমএম এর এজেন্ট।  যারা ডিওএমএম এর সম্মন্ধে জানেনা,তারা Riaz Raj Official নামক পেজে মেসেজ করে জেনে আসুন। আমি সংক্ষিপ্ত আকারে বলি। ডিওএমএম হচ্ছে খুবি শক্তিশালী একটা এজেন্সি।  রিয়াজ হচ্ছে এই এজেন্সির এজেন্ট। এদের কাজ হচ্ছে কালো যাদু,সাইন্স,মেশিন,মস্তিষ্ক সহ সব কিছু নিয়ে খেলা করা। অলরেডি এই ব্যাপারে গল্প লেখা আছে। আপনারা পেজে মেসেজ দিয়ে লিংক নিয়ে নিবেন। মনে রাখবেন,ডিওএমএম এর সিরিজ না পড়লে,এই গল্পের আগামাথা কিছুই বুঝবেন না। পেজের নাম মনে আছে তো? ফিরে যাই গল্পে। 

রিয়াজ অফিস থেকে বের হয়ে আকাশযানে চড়ে বসে।  লাল বাটনে চাপ দিতেই এক মেয়ের কন্ঠ ভেসে আসলো," 3...2...1... let's go....


অন্যদিকে ইন্সপেক্টর রিয়াজ আবার চোখ মেলে দেখে সে বাসায়। নিজেকে এইবার পাগলও ভাবা শুরু করেছে সে। হুটহাট করে কি হচ্ছে, কখন হচ্ছে কোথায় হচ্ছে সবি তার অজানা। তখনি সে দেখে,জানালার বাহিরে একজন ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। রিয়াজ বিছানা থেকে উঠে পিস্তল হাতে নেয়। বারান্দায় ঢুকেই সে গুলি করে দেয় সেই ছায়ামানব এর উপর। কিন্তু বুলেট তার গায়ে পড়ার আগেই সে গায়েব হয়ে যায়। রিয়াজ ভ্যাবাচেকা খেয়ে খুঁজতে লাগলো ছায়ামানবকে। আর তখন অদৃশ্য একটা কন্ঠ ভেসে আসে। রিয়াজ শুনতে লাগলো কথাগুলো। 

- ভয় পেয়োনা। আমি কোনো ভূত বা প্রেত না। তোমার সাথে এসব কেনো হচ্ছে আমি জানি। যদি অনুমতি দাও,তবে আমি তোমার সামনে আসতে পারি।

কথাগুলো শুনে ইন্সপেক্টর রিয়াজ বলা শুরু করেছে,

- কে আপনি? আর কি জানেন?

- তোমার সামনে আসবো?

- হুম আসুন।


ইন্সপেক্টর অনুমতি দেওয়ার সাথে সাথে দেখতে পায়, একটা রশ্নি আলো হুট করে তার সামনে ভাসমান হয়। যা অবিশ্বাস্য।  ইন্সপেক্টর দেখতে লাগলো আলোটাকে। দেখতে দেখতে দেখতে হটাৎ সে খেয়াল করে,একটা যুবক ছেলে সেখানে দাঁড়ানো। তার চুলগুলো অনেক লম্বা লম্বা। সব চুল ধবধনে সাদা রঙ্গের। লম্বা প্রায় ৭ ফুট। লাল একটা বড় জামা,আর ভিতরে কালো গেঞ্জি পড়া। স্টাইলিশ জামাকাপড়।পিঠের মধ্যে একটা লম্বা তলোয়ার আটকানো। কোমরের দুই পাশে দুটো পিস্তল। যেনো কোনো মুভি থেকে একটা সুপার পাওয়ারের অধিকারী লোক এসেছে তার সামনে। ইন্সপেক্টর কিছু বলার আগে এজেন্ট রিয়াজ বলল।

- হাই। আমার নাম রিয়াজ। এজেন্ট রিয়াজ।

- রিয়াজ? ওটা তো আমার নাম।

- হুম জানি। কিন্তু তুমি ইন্সপেক্টর রিয়াজ। আর আমি এজেন্ট রিয়াজ।

- ঠিক বুঝলাম না। 

🔴গল্পের মাঝে এড দেওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। 

দেখতে দেখতে শীতকাল চলে এলো এজন্য আমরা নিয়ে এসেছি ন্যায্য দামে উন্নতমানের শীতকালের জ্যাকেট(কুটি) জ্যাকেটের বিবরণ 🥰👇

Ladies Primium Winter Overcoat


চায়না উইন্টার ফেব্রিক্সের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ওভারকোট।

দুই পাশে পকেট দেওয়া আছে।

ছবির সাথে মিল থাকবে এবং কোয়ালিটি সম্পূর্ণ হিট প্রোডাক্ট।


লং সাইজঃ ৩৬/৩৮

বডি সাইজঃ ৩৮,৪০,৪২,৪৪

লেডিস জ্যাকেট গুলো দেখতে কেমন পিক দেওয়া আছে 👇




সাইজ বর্ণনাঃ

S=34,36 (আপাতত নাই, সামনে আসবে)

L=38,40

XL=42,44

মূল্য ১২০০৳

অর্ডার করতে ইনবক্স করুন📨

আবার গল্পে ফিরে আসা যাক🤩

- সোজা কথায় বলি। তুমি এই কয়দিন যে ভৌতিক কাহিনী দেখেছিলে। তা ছিলো শুধুমাত্র একটা 3D ভিডিও ফুটেজ।  অর্থাৎ ফুটেজের দ্বারা তোমাকে এসব দেখানো হয়েছে। তোমার মত সেম লাশ ঝুলে থাকা,ওটা তোমারি দেহ ছিলো। তবে তা ভিডিও একটা ফুটেজ মাত্র। যা দেখলে যে কেও অশরীরী মনে করবে। সামিয়া,আর ফাতেমা তারাও ছিলো একটা ভিডিও ফুটেজ মাত্র। আর এই কাজ আমরা করেছি তখন,যখন তুমি ফাতেমার কেসটা হাতে নিয়েছিলে। তোমার চোখে একটা বায়ুকোষ ল্যান্স লাগানো হয়েছে। যার দ্বারা,আমরা তোমাকে যা দেখাবো,তুমি তাই দেখবা। হা হা হা,মজা না?

- আপনি কি পাগল? বা কোনো সাইকো? এসব করার কি দরকার ছিলো? আপনার লাভ হয়েছে কি? 

- এই কয়দিনে আমরা কাকে হত্যা করেছি? যারা একটা নিরীহ মেয়েকে মেরেছে তাদের? নাকি যাদের জন্য হাজার মেয়ের স্বাধীনতা বন্দি হয়েছে তাদের? 

- দুটোই তো এক। 

- রাইট। এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাকে বলে। ওরা ধর্ষক, ওদের জন্য মেয়েরা নিরাপদ না। ওরা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট, ওদের ভয়ে খাচায় বন্দি থাকতে হয়। ওরা ঘাতক,ওদের মৃত্যু অনিবার্য।  মেরে দিয়েছি। সবাইকেই মেরেছি। 

- আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও কিন্তু অন্যায়।

- যেটা আইন করতে পারেনা,সেটা ডিওএমএম করে। আইন অপরাধীকে ২ দিন জেল বন্দি করে। উপর থেকে চাপ এলেই ছেড়ে দেওয়া হয়।আই হেট সৌচ এ ল্যও,দ্যা ল্যও উইল বি লাইক দ্যা ল্যও। দিচ ইজ নট এ থিং টু প্লে। 

- বুঝলাম। আচ্ছা এইটুকু তো বলুন। ফাতেমার লাশ কোথায়। আর সামিয়ার লাশের রহস্য কি। ৪ বছর ধরে যে সিম কার্ড বন্ধ। ওটা থেকে কিভাবে কল দিলেন।

- আচ্ছা শুনো তবে। সামিয়ার লাশের কোনো অস্তিত্ব আসলেই নেই। গত ৪ বছর আগে যে লোকটা সামিয়াকে হসপিটাল এনেছিলো। সে ছিলো একজন সাইকো। আর সামিয়া তার স্ত্রী ছিলো। সামিয়ার বাবা- মা অনেক আগেই মারা গেছে। তাই সামিয়ার পরিচিত কেও যদি থাকে,সে ছিলো তার স্বামী শিবলু। শিবলু সামিয়াকে রাগের মাথায় আঘাত করে।  যার কারণে সামিয়ার মস্তিষ্কে প্রচুর ব্লাড জমা হয়ে যায়। এর ফলে সে মারাও যায়। কিন্তু শিবলু পরবর্তী সময়ে এইটা জানতে পারে।আর সেও নিজের রাগ করে,নিজেকে শেষ করে দেয়। যার কারণে দুজনের লাশেরই কোনো অস্তিত্ব ছিলোনা।

আর কলের ব্যাপারটা?

- সামিয়ার সিম থেকে তোমাকে আমরাই কল করেছি। আমি জানি তুমি অপরাধীদের ধরলে তারা ২ দিন পর মুক্ত হয়ে যাবে। তাই তোমাকে ভয় দেখিয়ে,তাদের কেস আমরা হেন্ডেল করেছি। আর সামিয়ার ভোকালটা ছিলো আমাদের এক মেয়ে এজেন্টের।

- তাহলে এই ব্যাপার।  কিন্তু আমি ডিওএমএম এর সম্মন্ধে জানতে চাই। কে তারা,কেনো করছে এসব। 

- সব কিছু দেওয়া আছে। খুঁজুন আপনি। ঠিকই জেনে যাবেন।


বলেই এজেন্ট রিয়াজ বারান্দা থেকে লাফ দেয়। আর সোজা আকাশযানের উপর উঠে যায়। ছুটতে লাগলো রিয়াজও। কারণ ব্লাক ডেভিলকে খুঁজতে হবে এখন। ব্লাক ডেভিল নাকি ডিওএমএম এর ৬ জন এজেন্টকে দিয়ে অনেক শক্তিশালী যন্ত্র বানিয়ে ফেলেছে। ডিওএমএম এর ৬ জন এজেন্ট এখন ব্লাক ডেভিলের আন্ডারে কাজ করে। ৬ জন এজেন্ট এখন ব্লাক ডেভিলের এক একটা লেভেল। অর্থাৎ ব্লাক ডেভিলের কাছে পৌঁছানো অসম্ভব।  এখনো তো এইটাই জানেনা,কে এই ব্লাক ডেভিল,আর কোথায় তার বাসা। ব্লাক ডেভিল দেখতে কেমন,তাও কেও জানেনা। ব্লাক ডেভিল নামটা সবার মুখে মুখে,আজ অব্দি চেহারা দেখায়নি সে। আসলেই কে সে? অদৌ কি রিয়াজ ব্লাক ডেভিলকে শেষ করতে পারবে? আচ্ছা এইটাই তো কেও জানেনা। ব্লাক ডেভিল কোনো মানুষ? নাকি এলিয়েন? জানতে চোখ রাখুন,আগামী সিরিজে..! 


.............সমাপ্ত............



ঘটনা মূলক কমেন্ট করুন।আপনারা গল্প পড়ে মজা নেন,আমি কমেন্ট পড়ে।আর রিভিও দিতে ভুলবেন না কেও।